দিন কয়েকের ছুটি। হাতে লম্বা লিস্ট। বিশেষ কোনও স্থানে বেড়াতে গেলে, সেখানকার সমস্ত স্পট দেখে আসা চাই-ই চাই! এই মানসিকতা নিয়েই ভ্রমণ সারেন মধ্যবিত্তের দল।
আজ এই নদী, কাল ওই পাহাড়। একটা শেষ হতে না হতেই পরের গন্তব্যের তাড়া। এই যে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এর নাম কি সত্যিই ভ্রমণ? নাকি এক ক্লান্তিকর প্রতিযোগিতা? এক শহর থেকে অন্য শহরে চেক-লিস্ট মেলানোর দিন এবার ফুরিয়ে এল। পর্যটনের মানচিত্রে এখন নতুন মন্ত্র— ‘স্লো ট্রাভেল’।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ পর্যটক এখন বিলাসবহুল হোটেলের বদলে খামারবাড়ি বা গ্রামের নির্জনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনকী ভিনদেশি পর্যটন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ‘ফার্ম স্টে’ বা গ্রামীণ আবাসের খোঁজ বেড়েছে কয়েক গুণ। মানুষের এখন প্রয়োজন খোলা হাওয়া, পাহাড়ি ট্রেইল আর মাটির ঘ্রাণ। যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে গ্রামীণ জীবনকে কাছ থেকে দেখাই এখন নয়া ট্রেন্ড। কিন্তু এই ট্রেন্ডের শুরুয়াত জেন-জি-র হাত ধরেই।
কেন এই বদল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনের ইঁদুর দৌড় থেকে মুক্তি পেতে জেন-জি এখন সহজ-সরল রুটিন খুঁজছে। বড় বড় নামী শহরের বদলে পর্যটকরা বেছে নিচ্ছেন ছোট জনপদ। সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচ যেমন কম, তেমনই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অনেক বেশি।
ভ্রমণ মানে আর কেবল গন্তব্য পৌঁছনো নয়। ভ্রমণ এখন নিজেকে খুঁজে পাওয়া। ধীর পায়ে হাঁটা, নয়া সংস্কৃতি, অচেনা মুখ, অজানা লোকালয়ের খোঁজ। আর একটু জিরিয়ে নেওয়া। শান্তির অন্বেষণ। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে পর্যটন দুনিয়া বলছে— তাড়াহুড়ো নয়, এবার একটু ধীরে চলো বন্ধু!
