সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত মানেই বৈচিত্র। কিন্তু এই বৈচিত্র কেবল সংস্কৃতি বা পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়। এ দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে এমন বহু স্থান, যা আদ্যোপান্ত রহস্যে মোড়া। বিজ্ঞানে যার তল মেলা ভারি মুশকিল। কোথাও রহস্যের ছায়া। কোথাও আবার অশরীরী ভয়। হগওয়ার্টস কিংবা নেটফ্লিক্সের ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর জগতকেও হার মানাতে পারে এইসব স্থানগুলি।
রাজস্থানের ভানগড় দুর্গ
রাজস্থানের ভানগড় কেল্লার নাম শোনেননি এমন রহস্যপ্রিয় মানুষের সংখ্যা কম। সূর্যাস্তের পর সেখানে প্রবেশ নিষেধ। কথিত আছে, এক তান্ত্রিকের অভিশাপে ধ্বংস হয়েছিল এই জনপদ। আজও রাত বাড়লে সেই নির্জন দুর্গে অশরীরীদের ফিসফিসানি শোনা যায় বলে দাবি করেন পর্যটকরা। রাজস্থানেরই আর এক গ্রাম কুলধারা। এক রাতে বেমালুম গায়েব হয়ে গিয়েছিল গোটা গ্রাম। কেন? সেই উত্তর আজও মেলেনি।
মহারাষ্ট্রের লোনার লেক
মহারাষ্ট্রের লোনার লেক। উল্কাপাতের ফলে তৈরি এই হ্রদের জল যেমন রহস্যময়, তেমনই অদ্ভুত এর বাস্তুতন্ত্র। উত্তরাখণ্ডের রূপকুণ্ড লেক আবার আরও ভয়ানক। বরফ গললেই সেখানে ভেসে ওঠে শয়ে শয়ে মানুষের কঙ্কাল। সেই কঙ্কালগুলো কাদের? তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ওড়িশার চাঁদিপুর সমুদ্র সৈকতে আবার সমুদ্র নিজেই খামখেয়ালি লুকোচুরি খেলে। কয়েক ঘণ্টার জন্য জলরাশি মাইলের পর মাইল সরে যায়। আবার হঠাৎ করে নিজে থেকেই ফিরে আসে একা।
অসমের জাতিঙ্গা গ্রাম
অন্ধ্রপ্রদেশের লেপাক্ষী মন্দিরের ঝুলন্ত স্তম্ভটি আজও স্থাপত্যবিদ্যার বিস্ময়। কোনও অবলম্বন ছাড়াই এটি মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি শূন্যে ঝুলে থাকে। অসমের জাতিঙ্গা গ্রামে আবার কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে পাখিরা গণ-আত্মহত্যা করে। এর প্রকৃত কারণ আজও রহস্যে মোড়া। কেরলের কোডিনহি গ্রাম ‘টুইন টাউন’ নামে পরিচিত। সেখানে যমজ শিশু জন্মের হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, যার চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত কোনও ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি।
মহারাষ্ট্রের শনি-শিঙ্গাপুর গ্রাম
মহারাষ্ট্রের শনি-শিঙ্গাপুর গ্রামে কোনও বাড়িতে দরজা নেই। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, দেবতা শনি স্বয়ং তাঁদের রক্ষা করেন। হিমাচলের গুয়ে গ্রামে ৫০০ বছরের পুরনো এক সন্ন্যাসীর মমি আজও অবিকৃত অবস্থায় বসে আছে। আবার গুজরাটের ‘লাকি রেস্টুরেন্ট’-এ কবরের পাশেই বসে খাবার খান ভোজনরসিকরা।
গুজরাটের ‘লাকি রেস্টুরেন্ট’
রহস্যের এই গোলকধাঁধায় পা রাখতে গেলে সাহস লাগে। যাঁরা রহস্য ভালোবাসেন, কিংবা অ্যাডভেঞ্চার করতে চান, তাঁরা চাইলেই এই স্থানগুলি একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। ভারতের এই অদ্ভুতুড়ে জায়গাগুলো যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, যুক্তির বাইরেও এক অন্য জগত আছে। সেখানে অন্ধকার আর আলো মিলেমিশে একাকার।
