শহরের আলোয় ঢাকা আকাশে এখন তারা দেখা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নাসিক জেলার এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে রাত নামলেই বদলে যায় পুরো দৃশ্য। আকাশজুড়ে ফুটে ওঠে অসংখ্য তারা, খালি চোখেই দেখা যেতে পারে আকাশগঙ্গার আবছা সাদা রেখা। সেই কারণেই নাসিকের উদমল গ্রাম এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ডার্ক স্কাই কমিউনিটি’ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
উদমল, নাসিক, মহারাষ্ট্র।
মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নাসিক জেলার সুরগানা তালুকায় অবস্থিত উদমল নামের এই গ্রাম। আশপাশে বড় শহর বা নগরাঞ্চল না থাকায় এখানে কৃত্রিম আলোর দূষণ তুলনামূলকভাবে কম। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, গ্রামের বাসিন্দা সংখ্যা বড়জোর ৫০০-৬০০ জন।
উদমলের বিশেষত্ব শুধুমাত্র পরিষ্কার আকাশ নয়, স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও। ২০২৫ সালের মে মাসে স্থানীয় গ্রামসভা ‘পেসা’ আইনের আওতায় ভারতের প্রথম ‘ডার্ক স্কাই রিজোলিউশন’ গ্রহণ করে।
এখানকার আকাশে আকাশগঙ্গার এমন স্পষ্ট হওয়ার নেপথ্যে মূল কারণ, দূষণের অভাব। শহরের রাস্তার আলো, বিজ্ঞাপনের উজ্জ্বল সাইনবোর্ড, বাড়ির আলো—সব মিলিয়ে আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র থাকলেও তা আমাদের চোখের আড়ালে চলে যায়। উদমলের রাতের আকাশ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাশ্রয়ী পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
মহারাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ১১টি জায়গাকে ‘অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজম’-এর জন্য চিহ্নিত করেছে। তালিকায় উদমলের পাশাপাশি রয়েছে পেঞ্চ, তাডোবা-আন্ধারি, লোনার, ভীমাশঙ্কর, মেলঘাট, তোরণমাল ও ভান্ডারদারার মতো জায়গা। পরিকল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে এখানে ‘স্টারগেজিং’, ‘অ্যাস্ট্রোফোটোগ্রাফি’, ‘টেলেস্কোপ ভিউয়িং’ এবং ‘অ্যাস্ট্রোনমি এডুকেশন’ প্রভৃতির অভিজ্ঞতালাভের সুযোগ তৈরি করা।
কলকাতা থেকে উদমল যাবেন কীভাবে?
কলকাতা থেকে উদমল সরাসরি যাওয়া সহজ নয়। হাওড়া থেকে গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস ধরে নাসিক রোড স্টেশনে নামা যায়। সেখান থেকে নাসিক শহর হয়ে সড়কপথে সুরগানা যেতে হবে। উদমল একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। তাই শেষ অংশটুকুর জন্য স্থানীয় গাড়ি/ক্যাব আগে থেকে ঠিক করে নেওয়াই ভালো। উদমলের নিজস্ব গণপরিবহন ব্যবস্থা সীমিত এবং নিকটবর্তী রেলস্টেশনও বেশ দূরে।
প্রতীকী চিত্র।
আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অমাবস্যার কাছাকাছি রাত সবচেয়ে ভালো—চাঁদের আলো কম থাকায় আকাশগঙ্গা ও অন্যান্য তারা মেঘমুক্ত রাতও গুরুত্বপূর্ণ। তবে উদমল এখনও বিকশিত পর্যটনকেন্দ্র নয়। তাই যাওয়ার আগে স্থানীয় থাকার ব্যবস্থা, গাড়ি, খাবার প্রভৃতির আয়োজন কতখানি রয়েছে, তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
