গ্রীষ্মের ছুটি মানেই বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান! সপ্তাহান্তের ছোট্ট ট্রিপ হোক, অথবা কয়েকদিন সময় নিয়ে সপ্তাহব্যাপী ট্যুর— বেড়ানোর আগে ব্যাগ গুছানো নিয়ে সাজো সাজো রব পড়ে যায়। ক’টা জামা লাগতে পারে, রোজকার প্রয়োজনের জিনিসের মধ্যে নিতেই হবে কোনগুলো? ওষুধপত্র মনে করে রাখা হল তো? আরও কত কি! অভিজ্ঞ ভ্রমণপ্রেমীরা অবশ্য পরামর্শ দেন, দীর্ঘ সময়ের যাত্রাপথ পেরোতে হলে, সবের সঙ্গে ব্যাগপ্যাকে রাখা উচিত একটা টেনিস বল (tennis ball)!
শুনেই চক্ষু চড়কগাছ? খুব স্বাভাবিক। বেড়ানোর ব্যস্ত স্কেডিউলের মধ্যে টেনিস বলের কি এমন গুরুত্ব? কোন কাজেই বা লাগে? জেনে নেওয়া যাক বিশদে।
প্লেন, ট্রেন বা চারচাকার গাড়ি— অনেকক্ষণ সিট ছেড়ে না উঠলে, শরীরের আড়ষ্টতা অনিবার্য।
ট্রেন হোক, প্লেন হোক বা চারচাকার গাড়ি— দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীরের পেশি। কাঁধ-পিঠের যন্ত্রণা শুরু হয়। রক্ত চলাচল ব্যহত হওয়ার কারণে পা ঝিনঝিন করতে পারে। অথচ চলন্ত যানের ভিতর তো আর এই আড়ষ্টতা ছাড়ানোর উপায় থাকে না। এই সময়েই কাজে আসবে টেনিস বলটি!
১। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সবচাইতে বেশি আড়ষ্ট হয়ে পড়ে কোমরের নিচের অংশ এবং নিতম্ব। টেনিস বলটিকে কোমরের একপাশে রাখুন, এবং আলতো হাতে গোলাকারে মাসাজ করুন। এরপর অন্যপাশেও মাসাজ করুন একইভাবে। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।
২। ঘাড় ও কাঁধ টাটিয়ে উঠতে পারে। যদি পিঠ রাখার সিট যাত্রীর মাথা পর্যন্ত উঁচু হয়, তবে পিঠের একেবারে উপরের দিকে ঘাড়ের নিচে বলটি রাখুন। এবং তার ওপর দেহের ভার ছেড়ে দিন ধীরে ধীরে। শরীর আলতোভাবে উপর নিচে সরান। তারপর সরান আড়াআড়িভাবেও। এতে আড়ষ্টতা কেটে যায় অনেকখানি।
৩। জায়গা ছেড়ে উঠতে না পারলে, পায়ে ঝিনঝিনে অনুভূতি হতে পারে। এমন অবস্থায় পায়ের জুতো খুলে, সরাসরি পায়ের পাতার নিচে টেনিস বলটি রাখুন। আলতো চাপ দিয়ে তা গড়াতে থাকুন সামনে, পিছনে অথবা গোলাকারে। দুই পায়েই দেড়-দুই মিনিট করতে হবে এমনটা। এতে ঝিনঝিনে ভাব ছাড়বে, রক্ত সঞ্চালন সহজ হবে।
পায়ের তলায় রেখে ঝিনঝিনে ভাব কাটানো যায়। ঘাড়ের পিছনে রেখে ঘাড়-পিঠের ব্যথা কমানো যায়।
কারা টেনিস বল ব্যবহার করবেন না?
যদি কোথাও পূর্বের চোট লাগা ব্যথা থাকে, তবে টেনিস বল কোনও কাজে লাগবে না। যদি যাত্রাপথে উঁচুনিচু রাস্তা অথবা পাহাড়ি পথ থাকে, তবে কখনওই ঘাড়ের পিছনে বল রাখা যাবে না। গাড়ি আচমকা বাঁক নিলে, শরীরে হ্যাঁচকা টান লেগে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
ভুললে চলবে না যে টেনিস বল কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তাই সুযোগ পেলেই সিট ছেড়ে উঠে খানিক হাঁটাহাঁটি করতে হবে। একবার এই ছোট্ট টোটকা কাজে লেগে গেলে, ভ্রমনার্থী নিজেই আর তা ব্যাগ-ছাড়া করবেন না!
