কখনও গুপ্ত, কখনও পাল আমল দেখেছে এই অঞ্চল। কখনও আবার বখতিয়ার খিলজির শাসনের সাক্ষী থেকেছে। মুঘল থেকে ব্রিটিশ ইতিহাস পেরিয়ে এই জেলা পরবর্তীতে দেখেছিল দাসমুন্সি-যুগ। বাড়ির সামনে থাকত ভিভিআইপিদের লাইন। গোটা জেলার কংগ্রেস কর্মীদের ওয়ার-রুম হয়ে উঠত একটাই বাড়ি। যাঁদের হাত ধরে স্বপ্ন দেখত রায়গঞ্জ, স্বপ্ন দেখত উত্তর দিনাজপুর, সেই দাসমুন্সি বাড়ি আজ খাঁ খাঁ করছে। দাসমুন্সি-যুগ শেষে এখন জেলায় দলবদলুদের ভিড়। দাসমুন্সিদের দেখানো এইমসের স্বপ্ন এখনও দেখে রায়গঞ্জ, কিন্তু সেই মাটিতে আজ যাঁরা রাজনীতির হোতা, তাঁদের কেউ 'ঈশ্বরপুর' গড়ার স্বপ্ন দেখান, কেউ স্মরণ করেন পঞ্চানন বর্মাকে। সংখ্যালঘু ভোট যে জেলায় ফ্যাক্টর, সেখানে ক্রমশ বাসা বেঁধেছে ভোটাধিকার হারানোর ভয়। চা শ্রমিকের জেলা, তুলাইপাঞ্জী ধান চিনিয়েছে। কৃষিজীবীদের জেলা, সংখ্যালঘুদের জেলায় ইস্যুর অভাব নেই। কিন্তু ভোট আর ভোটার হারানোর ভয় আপাতত চেপে বসছে সব পক্ষের উপরেই।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের জেলা অবিভক্ত দক্ষিণ দিনাজপুর অধুনা উত্তর দিনাজপুর স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থেকেছে। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে অনেক লড়াই লড়েছে এই জেলার মানুষ। তেভাগা আন্দোলনের আঁতুড়ঘর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেই সংগ্রামী মানুষের কংগ্রেস আর বামপন্থীদের প্রতি একটা সহজাত টান ছিল। রাজনৈতিক ইতিহাসও সে কথাই বলে। কংগ্রেসের এলাকা নয়, সবাই বলতেন কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দূর্গ। আর সেখানকার অধিপতি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী। তাঁর মৃত্যর পরও গড় ধরে রেখেছিলেন জায়া দীপা দাসমুন্সী। কিন্তু রাজনীতি তো সহজ পাটিগণিতে মেলে না, তাই হয়তো 'প্রিয়দা'র স্ত্রীকেও একদিন হেরে যেতে হয়।
কোন অভিমানে জানা নেই, তবে দীপার সঙ্গে আর বিশেষ যোগাযোগ নেই এখানকার কংগ্রেস নেতৃত্বের। অভিভাবক-হারা কংগ্রেসের দূর্গের ভিত ক্রমশ নড়তে শুরু করে। ওদিকে, উত্তর থেকে নামতে নামতে এই দিনাজপুরে কেশরী রং অনেকটাই ফিকে। ২০১১ সালের পর থেকে গোটা জেলাতেই তৃণমূলের জয়জয়কার শুরু হয়। ২০২১-এর উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় বিজেপির আধিপত্য বাড়লেও ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার ৯টি বিধানসভা আসনের মাত্র দু'টিতে বিজেপি জয়ী হয়। তার মধ্যে এক বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলবদল করে তৃণমূলে।
দীপার পর দেবশ্রী উত্থান
২০০৬ সালেও বিধানসভা ভোটে বাংলাদেশ সীমান্তের গোয়ালপোখর থেকে দীপা দাসমুন্সী জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন। তারপর ২০০৯ সালে রায়গঞ্জ থেকে সাংসদ হন দীপা। তবে ২০১৪ সালে ছিল 'হেভিওয়েট' লড়াই। প্রতিপক্ষ মহম্মদ সেলিম। সামান্য মার্জিনে হেরে যান দীপা। তারপর ২০১৭-তে প্রিয়রঞ্জনের মৃত্যুর পর পুরোপুরি বদলাতে থাকে জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে দীপাকে পর্যুদস্ত করে রায়গঞ্জে পদ্ম বিছনোর যাত্রা শুরু করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তবে বিজেপি তাঁর কেন্দ্র বদল করে দেওয়ার পরও বিজেপির জমি ধরে রেখেছেন কার্তিক চন্দ্র পাল।
নজর কাড়ছেন যারা
১১ বার বিধায়ক হওয়ার পর অবশেষে 'অবসর' পেয়েছেন আব্দুল করিম চৌধুরী। টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কংগ্রেসের টিকিটে একাধিকবার বিধায়ক হওয়া করিম চৌধুরী ২০১১-র পালাবদলের সময় চলে আসেন তৃণমূলে। পরে ২০১৬ সালের ভোটে হেরে যাওয়ায় তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। পরে আবারও ফিরে আসেন জোড়া ঘাসফুল শিবিরে। সেই করিম চৌধুরীর জায়গায় ইসলামপুরে ২০২৬-এ তৃণমূল যাঁকে টিকিট দিয়েছে, সেই কানাইয়ালাল আগরওয়ালও ঘুরেফিরে কংগ্রেসের পাঠশালার 'ছাত্র'। মজার বিষয় হল, ২০১৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী এই কানাইয়ালালের কাছেই হারতে হয়েছিল জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি করিম চৌধুরীকে । আর আজ দলবদলে সেই করিমের কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে ভোটযুদ্ধে কানাইয়ালাল।
অবশ্যই নজরে থাকছেন রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। গত পাঁচ বছরে চারবার ভোটপ্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের এই বিদায়ী বিধায়ক। ২১-এ বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়ে বিধায়ক হন, তারপর তৃণমূলে যোগদান। চব্বিশের লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হন পদ্ম প্রার্থীর কাছে। সেই বছরই তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়ে ফের বিধায়ক হন তিনি। এবার ফের জোড়া ঘাসফুলের প্রার্থী কৃষ্ণ, আর প্রতিপক্ষে বিজেপির নতুন মুখ তথা ছাত্রনেতা কৌশিক চৌধুরী। আর এক প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম মোহিত সেনগুপ্ত, তিনি কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা দু'বারের প্রাক্তন বিধায়ক। আর ২৫ বছর পর এবার এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী ঠিকাদার জীবনানন্দ সিংহ। বহুদিন পর চতুর্মুখী লড়াই দেখছে রায়গঞ্জ।
রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী
চাকুলিয়ার প্রাক্তন বাম বিধায়ক আলি ইমরাজ রামজ (ভিক্টর) ২০২৩-এ ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করায় বামেদের শরিক দল এখন জেলায় প্রায় অস্তিত্বহারা। চাকুলিয়ার কংগ্রেস প্রার্থী এবার সেই ভিক্টর। বেশ কিছুদিন আগে স্ত্রীর নির্যাতনের অভিযোগে শিরোনামে আসেন ভিক্টর। এদিকে, বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের গড় করণদিঘিতে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার সিপিএমের প্রার্থীপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিড়ি কারখানার মালিক মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক গৌতম পাল এবং কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী বিরাজ বিশ্বাস বিজেপির প্রার্থী। কংগ্রেসের মুর্তুজা আলম। কিন্তু লড়াই এবার ত্রিমুখী। ইটাহারে এবারও তৃণমূলের প্রার্থী মোশারফ হোসেন।
রায়গঞ্জের কংগ্রেসের প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত।
কোথায় কার জমি শক্ত
কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায় বিজেপির টিকিটে জিতলেও তৃণমূলের সঙ্গে মার্জিন ছিল খুবই কম। অপর একটি আসন বিজেপি পেয়েছিল কৃষ্ণ কল্যাণীর হাত ধরে। বর্তমানে তৃণমূলে থাকা কৃষ্ণ কল্যাণীর সঙ্গে সেই সময় তৃণমূল প্রার্থীর ভোটের ফারাক ছিল অনেকটাই। কানাইয়ালাল আগরওয়াল ছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণীর প্রতিপক্ষ। এদিকে কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত প্রতিপত্তি যতই বেশি হোক না কেন মাত্র ১০% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। সুতরাং এই দুই আসনে বিজেপি জিতলেও জমি যে খুব শক্ত ছিল তা বলা যায় না। তবে এবার এই রায়গঞ্জে তৃণমূলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল গোষ্ঠী কোন্দল।
এদিকে ইসলামপুরের আব্দুল করিম চৌধুরী তৃণমূলের প্রার্থী প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে এবার এমন প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে, যার পরপর দু'বার হারের রেকর্ড রয়েছে। সেই সঙ্গে কানাইয়ালালের কাছে আরও বড় চ্যালেঞ্জের নাম মিম। মহম্মদ বাবুল নামে এক প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীকে এবার টিকিট দিয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল। ভোট কাটাকাটির অঙ্কের খেলায় কানাইয়ালাল পিছিয়ে পড়বেন না তো? এমনই প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
করণদিঘি কেন্দ্রে ভোট শতাংশে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল জিতলেও তৃতীয় স্থানে থাকা বামেদের নিয়েই এবার জোর চর্চা চলছে। সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ শাহাবউদ্দিনের প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারছেন না জেলার রাজনীতিকরা। ৮২ শতাংশ সংখ্যালঘুর বাস যে গোয়ালপোখর বিধানসভা কেন্দ্রে, সেখানে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিও সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছিল। তবে এবার বিজেপির প্রার্থী স্মরজিত বিশ্বাস। সে ক্ষেত্রে গোলাম রব্বানীর জন্য আরও বেশি অ্যাডভান্টেজ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। অবশ্য উল্লেখ করতেই হয়, গত বিধানসভা নির্বাচনে ১ লাখের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন গোলাম রব্বানী, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩২ হাজারের কিছু বেশি।
একনজরে ২৬-এর ভোটে ফ্যাক্টর
১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর ভেঙে উত্তর দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়। জেলার ২২৭ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। কুলিক-সহ একাধিক নদী ওপার বাংলা থেকে এই জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। তাই এসআইআরের উত্তাপ এখানে অনেকটাই বেশি। মনে থাকবে, চাকুলিয়ায় এসআইআরের প্রতিবাদে কীভাবে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল আস্ত অফিস। এই পরিস্থিতিতে এই জেলায় বহু সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এসআইআর তালিকায়। যা বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন রাজনৈতিক কারবারিরা।
জেলায় অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে সংখ্যালঘু জনবসতিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এসআইআরের পরে মারাত্মকভাবে জনবিন্যাসে বদল এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার প্রভাব ইভিএমে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা একফোঁটাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনীতিকরা।
ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে এই জেলাকে অনুপ্রবেশকারীদের নিশ্চিত ডেরা বলে চিহ্নিত করেন অনেকেই। এমনকী বিহার থেকেও সশস্ত্র দুষ্কৃতী জেলায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে নিরাপদে গা ঢাকা দিতে পারে।
নব্বইয়ের দশক থেকে যাঁরা রাজনীতি সম্পর্কে মোটামুটি ওয়াকিবহাল, তাঁরা জানেন জেলার মানুষ এইমসের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। দাসমুন্সীরাই সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর পর দীপা দাসমুন্সীর হাত ধরে সেই এইমস হবে বলে প্রত্যাশা ছিল অনেকেরই। কেন্দ্রীয় সরকার রায়গঞ্জে ১০০ একর জমিতে এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির জন্য ৮২৩ কোটি টাকা বরাদ্দও করে। কিন্তু কোথায় কী! এখনও ভোট এলে সব রাজনৈতিক দলই এইমসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা অমিত শাহের বক্তব্যেও উঠে আসে সেই এইমসের প্রতিশ্রুতি।
এই জেলার হাজার হাজার মানুষ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের খেদ, এখানে না আছে শিল্প, না আছে কাজের সুযোগ। কৃষিভিত্তিক জেলায় কাতারে কাতারে মানুষ বাইরে চলে যাচ্ছেন। এমনকী ভোটের সময়ও তাঁদের মধ্যে কতজন হাজির হতে পারেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এলাকার নেতাদেরও। এরমধ্যেই বাংলায় এসে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের নাম বদলের প্রতুশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তিনি বলেন, ''ইসলামপুরের নাম পরিবর্তন করে ঈশ্বরপুর করা হবে।'' সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলায় এই বার্তা কী প্রভাব ফেলবে? উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে এখনও এই জেলার মানুষের কাছে টাটকা ইসলামপুরের দাড়িভিটের ঘটনা। গত ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট হাই স্কুল। অবরোধ, লাঠিচার্জ, ইট-পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে বোমা-গুলিও চলে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মণ নামে দুই প্রাক্তন ছাত্রের। ঘটনার কয়েকবছর কেটে গেলেও উত্তর দিনাজপুরের মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি ঘটনার স্মৃতি। রয়েছে ক্ষোভ। ফলত ২৬ এর নির্বাচনে এর একটা প্রভাব ভোটবাক্সে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতে প্রচারে ভোটারদের কাছে হরেক উন্নয়নের বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রার্থীরা। যার মধ্যে রয়েছে রায়গঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত করার পরিশ্রুতি, রায়গঞ্জ স্টেশনের শহরের রেলগেটের সামনে উড়ালসেতু নির্মাণের আশ্বাস। আছে রাস্তা এবং পরিশ্রুত পানীয় জলের প্রতিশ্রুতিও। এই পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ''জেলায় এবার সব আসনে বিজেপি জিতবে। শুধু জেলা নয়, রাজ্যের ক্ষমতাতেও আসবে বিজেপি। তৃণমূলের অপশাসনের জবাব দেবে মানুষ।'' অন্যদিকে রায়গঞ্জের কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত জানান, মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। কংগ্রেস এবার অনেক আসন নিয়ে বিধানসভায় নতুন করে লড়াই করবে। ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জেতার ব্যাপারে আশাবাদী রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি বলেন, ''রায়গঞ্জে আমি সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার কাজ করেছি। ৫০ হাজার ভোটে জিতব।''
