রাত পোহালেই প্রথম দফার নির্বাচন। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বিজেপিতে যোগ দিলেন গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল বিধায়ক। বিধাননগরের বিজেপি দফতরে শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) তৃণমূলের টিকিট পাননি তিনি। গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে অজিত মাহাতো প্রার্থী করেছে শাসকদল। সূত্রের খবর, তারপর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে। দলের প্রার্থীর হয়ে কোনও প্রচারে দেখা যায়নি খগেন্দ্রনাথ মাহাতোকে। এমনকী তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতোর সমর্থনে ঝাড়গ্রামে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে জনসভা করেছিলেন, সেখানেও খগেন্দ্রনাথকে দেখা যায়নি। বুধবার, কলকাতায় বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে খগেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, "আমি একজন চিকিৎসক। চাকরি ছেড়ে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলাম। এই তৃণমূল মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তাই কোনও ভদ্রলোক এই দলে থাকতে পারেনা। দেশ তথা ভারতবর্ষের উন্নয়নের স্বার্থে আমি বিজেপিতে যোগদান করলাম।"
তৃণমূল বিধায়কের যোগদান প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, "তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। গোপীবল্লভপুরের পাশেই ওড়িশা। সেখানে বিজেপির সরকার রয়েছে। সেই সরকারের সুশাসন দেখে তিনি অভিভূত। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপিতে যোগদান করলেন।" তিনি আরও বলেন, "প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। প্রচারও শেষ। রাত পোহালেই নির্বাচন। ফলে প্রার্থী হওয়ার কোনও সম্ভবনা নেই। উনি নিঃশর্তভাবেই আমাদের দলে এসেছেন।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ঝাড়গ্রামে কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক বড় ফ্যাক্টর। গোপীবল্লভপুরে বিজেপি প্রার্থী করেছে রাজেশ মাহাতোকে, যিনি দীর্ঘ দিন পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামালেছেন। কুড়মি সমাজে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতিই বিজেপির বড় হাতিয়ার। অন্যদিকে, তৃণমূল ভরসা ঝাড়গ্রাম পুরসভার কাউন্সিলর অজিত মাহাতো। লড়াইয়ে রয়েছেন সিপিআইয়ের বিকাশ সড়ঙ্গী ও কংগ্রেস প্রার্থী সৌরভ রায়ও। প্রথম দফার ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে খগেন্দ্রনাথের মতো এমন দাপুটে নেতার বিজেপিতে যোগদান এই কেন্দ্রে লড়াইয়ের সমীকরণ কতটা বদলে দিতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা জেলা।
