তীর্থযাত্রায় বের হওয়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিষে দিল দ্রুত গতির ট্রাক। থাইল্যান্ডে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ ভিক্ষুর। পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। যার মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবাক করা বিষয় হল, ঘাতক এই গাড়ির চালকের আসনে ছিল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ১১ বছরের এক বালক।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে ৪০০ মাইল দূরে। এই অঞ্চলের গভর্নর ভোরায়ান বুনারাত বলেন, ৩৪ জন ভিক্ষুর একটি দল ওই অঞ্চলের একটি মঠ থেকে পার্শ্ববর্তী উবন রাতচাথানিতে অন্য একটি মঠে তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা মারে। ভয়ংকর দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৫ জনের। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরও ৪ জনের। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ড সরকার। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ঘাতক এই গাড়ির চালকের আসনে ছিল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ১১ বছরের এক বালক।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ১১ বছরের এক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বালক। বাবা-মায়ের নজর এড়িয়ে গাড়ি নিয়ে সে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে গোটা রাস্তায় কার্যত তাণ্ডব চালাতে চালাতে এগিয়ে যায় ট্রাকটি। যার জেরেই ভয়ংকর এই দুর্ঘটনা। অভিযুক্ত ওই বালককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় পড়ে রয়েছেন আহত সন্ন্যাসীরা। গোটা রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁদের জিনিসপত্র।
দুর্ঘটনার পর রাস্তায় ছড়িয়ে আহত ও মৃত সন্ন্যাসীদের দেহ।
থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, যেখানে জনসংখ্যার ৯৩ শতাংশেরও বেশি এই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এই ভিক্ষুরা প্রায়শই শোভাযাত্রা করেন এবং জনসাধারণের কাছ থেকে শুভেচ্ছাসূচক দান গ্রহণ করেন।
