শান্তিচুক্তি অতীত। মধ্যপ্রাচ্যে লাগাতার ছ'দিনে পড়ল ইরান-আমেরিকা হামলা ও পালটা হামলা। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের একাধিক বেসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালাল মার্কিন সেনা। তিনটি সেতু, একটি রেল স্টেশন এবং বিমানবন্দরে হামলা চালানোর খবর মিলেছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। শান্তিচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এবার ইরানের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই মতো ভয়ংকর হামলা চলছে বলেই খবর।
এদিকে পালটা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। জানা গিয়েছে জর্ডনে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এছাড়াও ইরানের হামলার আশঙ্কায় কাতারে প্রশাসন সাধারণ বিশেষ সতর্কতার নির্দেশিকা জারি করেছে। বিপদ এড়াতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে বারণ করা হয়েছে নাগরিকদের। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও আমেরিকা-ইরানের মধ্য মধ্যস্থতা করেছিল। যদিও হরমুজ নিয়ে দ্বন্দ্বে ব্যর্থ হয় সেই চেষ্টা। এর আগে মার্কিন হামলার বদলা নিতে বাহারিন ও কুয়েতে হামলা চালিয়েছিল মোজতবা খামেনেইর দেশ।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলি আমেরিকার হামলার শিকার হয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক ও বন্দর-এ-লেঙ্গেহ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। হামলায় আগের রাতের তুলনায় পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। বন্দর-এ-খামিরের কাছে তিনটি সেতুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং বন্দর আব্বাসের ‘তাপেহ আল্লাহ আকবর’ এলাকা-সহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বায়ুসেনা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলপথ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ইরানশহরে একটি হামলায় ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় বিমানবন্দরে। শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বলা বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধ বাঁধায় চিন্তায় ভারত। এর জেরে নতুন করে জ্বালানি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
