যদি প্রয়োজন পড়ে তবে ইরানে ফের হামলা চালাবে ইজরায়েল। এমনকী আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলেও হামলা করতে দ্বিতীয়বার ভাববে না তারা। ছুঁচো গেলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প যখন উঠেপড়ে লেগেছেন সেই সময় স্পষ্ট ভাষায় একথা জানিয়ে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)।
সম্প্রতি ইজরায়েলের এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইরান ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেই লক্ষ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে ইজরায়েল। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আশঙ্কা তৈরি হলে ফের হামলা চলবে।'' যুদ্ধ প্রসঙ্গে নিজের যুক্তি স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু বলেন, ''পরমাণু বোমার হাত থেকে আমরা নিজেদের দেশকে বাঁচিয়েছি। দু'বার ইরানে ঢুকেছি, প্রয়োজন হলে তৃতীয়বারও তা করা হবে।" ইজরায়েলের এহেন হুঁশিয়ারি এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইরানের সঙ্গে মউ সই করার পর শান্তির লক্ষ্যে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা।
নেতানিয়াহুর বার্তা, ''পরমাণু বোমার হাত থেকে আমরা নিজেদের দেশকে বাঁচিয়েছি। দু'বার ইরানে ঢুকেছি, প্রয়োজন হলে তৃতীয়বারও তা করা হবে।"
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইরান ও তাদের বন্ধুদের বিরুদ্ধে ইজরায়েল যে অভিযান চালাচ্ছে তা শেষ হয়নি। গত তিন বছরে যথেষ্ট সাফল্যের পর পূর্ণ জয়ই লক্ষ্য ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর। গাজা অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহু বলেন, "এর কোনও শেষ নেই। ইজরায়েল আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের আরও অনেক কাজ রয়েছে। ইরানের হাতে যতটুকু শক্তি রয়েছে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।" লেবানন প্রসঙ্গেও নেতানিয়াহু বলেন, "আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। হুমকি বন্ধ না-হওয়া পর্যন্ত আমরা দক্ষিণ লেবানন ছাড়ব না।"
ইরান ও আমেরিকার এই চুক্তি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, এই চুক্তিকে নেতানিয়াহু যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তা বহুবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। বারবার লেবাননে হামলার ঘটনায় ইজরায়েলের বার্তা স্পষ্ট, যে ইজরায়েল কোনও চুক্তিতে নিজেদের আবদ্ধ বলে মনে করে না। যা ইরানের সামরিক বা পারমাণবিক সক্ষমতাকে অক্ষুণ্ণ রাখে। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইজরায়েলকে সংযম দেখানো আবেদন জানিয়েছেন। বলেছেন, উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার। তবে নেতানিয়াহু যে সেসবকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না তা বলাই বাহুল্য।
