বালোচিস্তানকে হাতের মুঠোয় রাখতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি করেনি পাকিস্তান। খনিজ সম্পদে পূর্ণ এই অঞ্চলকে লুট করতে আমেরিকা, চিনের মতো দেশগুলিকে সেখানে ঢুকিয়েছিল শাহবাজ সরকার। তবে বাস্তব বলছে বালোচদের মারে নাজেহাল পাকিস্তান। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নিয়েছে, যে সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণ দেখিয়ে বালচিস্তানের সোনা ও তামার খনি ছেড়ে চলে যাচ্ছে পাক বন্ধু চিন। সাধের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিএসই) ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে। এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী হাফিজ পাশা।
দাবি করা হয়, বালোচিস্তানের সাইন্দাক খনিতে ২৭৮ টন তামা ও সোনা মজুত রয়েছে। এই খনির দায়িত্ব চিনকে দিয়েছিল পাকিস্তানের সরকার। তবে পাসার দাবি, চিন এই খনি ছেড়ে দিতে চাইছে। তাঁর কথায়, ''পাকিস্তানে নতুন বিনিয়োগ আসার পরিবর্তে বড় বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। সন্ত্রাসবাদের ভয়ই বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে।" তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তান আমেরিকার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ চাইছে। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হবে না। কারণ পাকিস্তানের চরিত্রই হল হাতে বড় বোনাস পেলে অপচয় করা।" তবে বালোচিস্তান থেকে চিনের সরকারি সংস্থার চলে যাওয়ার এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল যখন এই অঞ্চলে পাক সেনার উপর হামলা আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
চিনের সংস্থা সাইন্দাক মেটাল লিমিটেডের তরফে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখা হয়। যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, বালোচিস্তানের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে, তারা এক মাসের মধ্যে এই অঞ্চলে কাজ বন্ধ করে দেবে।
জানা যাচ্ছে, গত জুলাই মাসে চিনের সংস্থা সাইন্দাক মেটাল লিমিটেডের তরফে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখা হয়। যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, বালোচিস্তানের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে, তারা এক মাসের মধ্যে এই অঞ্চলে কাজ বন্ধ করে দেবে। স্পস্থার তরফে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত সমস্যার জেরে এই অঞ্চলে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। চিনা সংস্থার এই বার্তা পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ পরিস্থিতি যে পথে এগোচ্ছে তাতে দেশের সর্ববৃহৎ সোনা ও তামার খনি হাতছাড়া হতে চলেছে পাকিস্তানের।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে সেখানকার নাগরিকরা। ১১ আগস্ট দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বালোচদের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, চিনকে তাদের দেশ ছাড়তে হবে। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে চিনের বহু প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে বালোচরা। নিহত হয়েছেন বহু চিনা নাগরিক। পাকিস্তান চাইছে যে কোনও উপায়ে বালচিস্তানকে ধরে রাখার। যার জেরে পাকিস্তান চাইছে আমেরিকা বালোচিস্তানে ঢুকে পড়ুক।
