হরমুজ প্রণালীতে ফের শুরু হামলা। জানা গিয়েছে, সোমবার অন্তত দু'টি জাহাজ লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালায় ইরানের রেভোলিউশন গার্ড। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে মউ স্বাক্ষর হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল আগামী ৬০ দিন হরমুজে সমস্ত বাণিজ্যতরী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু তারপরেও বারবার হরমুজে আক্রান্ত হচ্ছে জাহাজ।
পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে একাধিকবার বৈঠকে বসছে তেহরান এবং ওয়াশিংটন। তবে শান্তিচুক্তি এখনও বিশ বাঁও জলে। তার মধ্যেই দুই দেশের বাগযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে ইরানে চলছে প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য। তার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কার, “ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বরা সবাই ওখানেই রয়েছেন। একটা গুলিতেই তাদের সবাইকে খতম করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ, তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না।”
এহেন মন্তব্যের দিনদুয়েক পরেই হরমুজে হামলা চালাল ইরান। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরানের সেনা অন্তত দু'টি মিসাইল ছুড়েছে। সেসময়ে দু'টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ পার করছিল। তবে ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেন। কয়েকদিন আগে হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত হয় ভারতীয় জাহাজও। জাহাজটিতে মোট ২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। কিন্তু বাণিজ্যতরীটি কোনও মতে বেঁচে হরমুজ পার করে।
প্রসঙ্গত, হরমুজে সংঘাত থামাতে ইরান-আমেরিকা মউ স্বাক্ষরিত হলেও নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের মতবিরোধ লেগেই রয়েছে। ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির থেকে বিশেষ ‘ফি’ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রথম থেকেই হরমুজে ‘টোল’ বসানোর ঘোর বিরোধী ওয়াশিংটন। এই নিয়ে আগে তেহরানকে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেই চোখরাঙানি উড়িয়ে দিয়ে ফি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তেহরান।
