ইরান যুদ্ধের জট এখনও কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ঘনিয়েছে যুদ্ধের মেঘ। এর জেরে ফের লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে তেলের দাম (Oil Price Hike) ব্যারেল পিছু পার করেছে ১২০ ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি বেশিদিন স্থায়ী হয়, তাহলে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমান-যানবাহন ভাড়া এবং পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেখা দেবে মুদ্রাস্ফীতি।
তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৫২ শতাংশ বেড়ে ১২১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ১.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০৮.৩৫ ডলার। অপরিশোধিতি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব শীঘ্রই ব্যারেল পিছু জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত মাসে যুদ্ধের আগুনে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার পার করে। তারপর সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং শর্তসাপেক্ষে হরমুজ খুলে যাওয়ায় তেলের দাম হ্রাস পায়। কিন্তু বর্তমানে ফের হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে আমেরিকাও। এখনও স্থায়ী কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। হুঁশিয়ারি এবং পালটা হুঁশিয়ারিতে লিপ্ত দুই দেশ। এই অবস্থায় ফের ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৫২ শতাংশ বেড়ে ১২১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ১.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০৮.৩৫ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃৃদ্ধিতে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই ভারতকে আমদানি করতে হয়। ফলে তেলের দামের এই বৃদ্ধি সরাসরি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের দাম বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করবে। ফলে ব্যয়বহুল হবে পরিবহণ ক্ষেত্র। বিমান ও পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়বে। দেশের সমস্ত ক্ষেত্রের পাশাপাশি রং, টায়ার, রাসায়নিক কারখানাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। উৎপাদনের খরচ বাড়লে তা সাধারণ মানুষের উপর চাপাতে বাধ্য হবে সংস্থাগুলি। যার জেরে মুদ্রাস্ফীতি গুরুতর আকার নিতে পারে।
