সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র প্রত্যাহার করবে হামাস। বৃহস্পতিবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়েছেন, গাজায় অসামরিক সরকার গঠনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। আগামী দিনে হামাস অস্ত্র প্রত্যাহার করবে। এলাকা ছেড়ে চলে যাবে ইজরায়েলি ফৌজও। প্রসঙ্গত, প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজস্ব সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বোর্ড অফ পিস এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র ছাড়তে রাজি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।' ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, হামাস অস্ত্রত্যাগ করলেই গাজা থেকে বিদায় নেবে ইজরায়েলি ফৌজ। তৈরি হবে প্যালেস্টাইনের নতুন পুলিশ বাহিনী যারা গাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ভার নেবে। সফলভাবে মধ্যস্থতার জন্য মিশর, কাতার এবং তুরস্ককে ধন্যবাদও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
খাতায়কলমে ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চলছে। কিন্তু বৃহস্পতিবারও ইজরায়েলি হামলায় গাজায় দুই শিশু-সহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে মুখ খোলেনি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন। অন্যদিকে হামাসের এক কর্তা জানিয়েছেন, অস্ত্রত্যাগ ইস্যুতে আমরা সহমত হয়েছি। ইজরায়েলি সেনা কবে বিদায় নেবে সেই নিয়েও একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কতদিনের মধ্যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই হামাস জানিয়েছিল, গাজার ক্ষমতা থেকে সরছে তারা। ২০০৬ সালে আইনসভার নির্বাচনে জয়ের পর ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যালেস্তিনীয় সংগঠন ‘ফাতাহ’-এর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় হামাস। দুই দশক ধরে গাজায় চলেছে সামরিক শাসন। একাধিকবার প্রতিবেশী ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে গাজা। এবার ক্ষমতা থেকে সরছে হামাস। অস্ত্র সংবরণেও রাজি হয়েছে। হামাসের মতে, দখলদার শক্তির (পড়ুন ইজরায়েল) আগ্রাসন এবং নির্মূল অভিযানের নামে গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করার লক্ষ্যেই ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত। এরপর কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে?
