মঙ্গলবার ফের যুদ্ধের আগুনে পুড়ল মধ্যপ্রাচ্য। রাতভর ইরানে বিমান হানা চালিয়েছে আমেরিকা। তার পালটা জর্ডন এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। মিসাইল আছড়ে পড়েছে কুয়েতের ঘাঁটিতেও। এহেন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর দখল এখন পুরোপুরি তাঁদের হাতে। ইরানের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা হবে না বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছে সেনা। তার প্রত্যাঘাত হিসাবেই রাজধানী তেহরান-সহ ইরানের একাধিক এলাকায় আকাশপথে হামলা করেছে আমেরিকা। দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়েবাড়িতেও আছড়ে পড়েছে মার্কিন মিসাইল। সেখানে এক শিশু-সহ পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত অন্তত ৬৫ জন। দেশজুড়ে হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ শানায় ইরানি সেনা। তাদের দাবি, অন্তত ২ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা।
রাতভর হামলার পরই ট্রুথ সোশালে বিরাট বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনায় বসতে রাজি নন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, 'হরমুজ প্রণালীর প্রায় পুরোটাই এখন আমাদের দখলে। আর ইরানের অর্থনীতি এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এখন ওরা কোনও চুক্তি সই করল কিনা তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না।' একইসঙ্গে ইরানের আমজনতাকে ট্রাম্পের বার্তা, এবার খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার সময় এসেছে। আর কতদিন বসে থাকবেন মানুষ?
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে একাধিকবার ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজের দখল নিয়েছে তাঁর দেশ। বারবার সেই দাবি খারিজ করেছে ইরান। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ পেরতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে একাধিক জাহাজ। সোমবার জাহাজে ইরানে হামলার পর বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে অশোধিত তেলের দাম। অন্যদিকে, বিয়েবাড়িতে হামলার নিন্দা করে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তারা জানিয়েছে, হরমুজের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করবে তেহরান।
