ইবোলা ভাইরাস। সম্প্রতি আফ্রিকায় এই মারণ ভাইরাসের দাপাদাপি গোটা বিশ্বেরই ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে। ৯ জুন পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, কঙ্গোয় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৫। পাশাপাশি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। আগের দিনই যা ছিল ৫৬.৪ শতাংশ, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৬১.১ শতাংশে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। কিন্তু আশার কথা অনেকেই সেরে উঠছেন। যদিও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবুও সতর্কতা রয়েছে পুরোদমে। তাঁর দাবি, প্রতিটি অঞ্চলের দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। কাম্বার কথায়, ''প্রতিটি সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা একটি জোরালো বার্তা দিচ্ছে। চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসুন, কারণ দ্রুত চিকিৎসাই জীবন বাঁচায়।'' বলে রাখা ভালো, ১৫ মে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয় ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও স্ট্রেন’ ছড়িয়ে পড়েছে কঙ্গোয়। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সংক্রমণ বাড়ছে।
বলে রাখা ভালো, কঙ্গো ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আপাতত সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই অঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরেই সংঘাত, গৃহহীন দশা এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জর্জরিত। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির আবহে বহু সংক্রমণ শনাক্ত না-হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। হু-র তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যেই একাধিক নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজধানী কাম্পালাতেও পৃথক সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এহেন পরিস্থিতিতে সতর্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।
