সব মিলিয়ে একমাসের চেয়ে সামান্য কিছুটা বেশি সময়। তার মধ্যেই কঙ্গোয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা। জানা গিয়েছে, সেদেশে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। শেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১০০৩। মৃতের সংখ্যা আড়াইশো পেরিয়ে এখন ২৫৪!
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ইতুরি প্রদেশে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এপর্যন্ত মোট ১০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে অন্তত ৩৬৫ জন রোগী হাসপাতালে বা আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিরল 'বুন্দিবুগিও' ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পর প্রথম মাসটিই ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ!
গত ১৫ মে প্রথমবার কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের কথা জানা গিয়েছিল। একমাসের সামান্য বেশি সময়ে সেখানকার ছবিটা ক্রমশ ভীতিপ্রদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা, সংস্পর্শের শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার বিষয়টি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারাও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সক্রিয় সংক্রমণের অনুসন্ধান করার পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের দিকটিও দেখা হচ্ছে। ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর প্রধান জঁ কাসেয়া বলেছেন, “সংক্রমণ না থামা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সহায়তায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অর্থ সংগ্রহের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।” উল্লেখ্য, এই ভাইরাসের কোনও টিকা বা চিকিৎসা নেই। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এমন অনেক রোগী থাকতে পারেন যাঁদের বিষয়ে এখনও কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি। প্রাদুর্ভাবের চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ পর্যায়টি এখনও আসা বাকি।
এহেন পরিস্থিতিতে কাসেয়া বলছেন, ''সংক্রমণ, বিশেষত ইবোলা সংক্রণ রুখতে হলে আপনাকে পুরো সংখ্যাটা জানতেই হবে। কিন্তু ঘটনা হল, কবে থেকে এই সংক্রমণ শুরু হল সেটাই এখনও জানা যাচ্ছে না।''
