আমেরিকা হোক কিংবা ভারত, নতুন শতাব্দীতে কট্টর দক্ষিণপন্থীদের দাপট দেখছে বিশ্ব। জার্মানিও (Germany) তার বাইরে রইল না। ঐতিহাসিক সন্ধীক্ষণের সাক্ষী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার সে দেশের একটি রাজ্যে ক্ষমতায় এল কট্টর ডানপন্থী 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি) দল। অভিবাসনবিরোধী এএফডি নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে। মনে করা হচ্ছে, ইউরোপের বাড়ন্ত শরণার্থী সমস্যাই এর কারণ। ভোটের প্রচারে শরণার্থীমুক্ত রাষ্ট্রবাদী দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিল 'হিটলারপন্থী' দলটি।
জার্মানির একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে। এর মধ্যে কট্টর ডানপন্থী দলটি ভোট পেয়েছে ৪৪.২ শতাংশ। যা বিগত ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণ। এই ঘটনা ১৯৪৫ সালের পর প্রথমবার ঘটল। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী সিডিইউ পেয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ ভোট। অভাবনীয় এই ফলাফল বার্লিন-সহ ইউরোপের অন্য দেশগুলির রাজনৈতিক আঙিনাতেও প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দলের বড় জয়কে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ। তিনি বলেন, ‘জার্মানির একটি রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের জয় ইউরোপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
ইউরোপের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জার্মানিতে জাতীয় পর্যায়েও এএফডি ক্রমশ সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হয়ে উঠছে। একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের কট্টর অবস্থানকে তুলে ধরছে তারা। তাদের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন তথা শরণার্থী বিষয়ে কঠোর অবস্থান, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের নীতি এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন হ্রাস করা, ইউরো ত্যাগ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে নিজস্ব আর্থিক কাঠামো তৈরির শপথ।
উল্লেখ্য, কঠোর অভিভাসন নীতি, 'আমেরিকা ফার্স্ট' জাতীয়তাবাদী প্রচারের জোরেই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার মতো কিংবা তারচেয়ে বেশি শরণার্থী সমস্যায় বিপন্ন বর্তমান ইউরোপ। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার মতো কারণে বিগত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ইউরোপে ঢুকেছে লাখ লাখ মানুষ। একদিকে তৈরি হয়েছে পুনর্বাসনের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, অন্যদিকে ব্যবসা-কর্মসংস্থানের মতো ক্ষেত্রগুলিতে স্থানীয়রা তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়ছেন।
এএফডি-র মতো কট্টরপন্থী দলগুলির দাবি, শরণার্থীদের কারণেই ইউরোপের সভ্য দেশগুলিতেও বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। এইসঙ্গে ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দা ভোটাররা এই বিষয়গুলিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। এর ফলেই নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' ।
