ঢাকঢোল পিঠিয়ে সম্প্রতি 'মুসলিম ন্যাটো' গঠন করেছে তিন ইসলামিক রাষ্ট্র সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। প্রতিরক্ষা চুক্তির পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে তিন দেশ জানিয়েছিল, কোনও একটি দেশের উপর শত্রুর হামলা হলে, বাকি দুই দেশ এই হামলাকে নিজের উপর হামলা হিসেবে দেখবে। তবে 'কাগুজে বাঘ' মুসলিম ন্যাটোর দাঁত-নখ ভেঙে গেল মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার একদিন পরই সৌদি আরবে (Saudi Arabia) ভয়ংকর হামলা চালাল ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হাউথি। ড্রোন হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক তেল শোধনাগার।
জানা যাচ্ছে, সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সংস্থা সৌদি আরামকোর এক তেল শোধনাগারে এদিন হামলার ঘটনা ঘটে। ড্রোন হামলার পরই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় শোধনাগারে। হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউথি। রবিবার এক বিবৃতিতে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রক এই হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, তেল শোধনাগারটিতে আগুন লেগেছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এই হামলায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, জিজানের শোধনাগারটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের ড্রোন অনুপ্রবেশের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার পর বিশ্বমঞ্চে কার্যত হাসির পাত্র হয়ে উঠেছে তিন দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সদ্য গঠিত মুসলিম ন্যাটো।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মাঝেই সম্প্রতি হাউথিদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করেছিল হাউথিরা। অভিযোগ তোলা হয়, সৌদি আরব তাদের উপর অবরোধ শুরু করে যার জেরেই পালটা পদক্ষেপ। এবার ড্রোন অনুপ্রবেশের পালটা সৌদির তেল শোধনাগারে হামলা চালাল হাউথিরা।
তবে এই হামলার পর বিশ্বমঞ্চে কার্যত হাসির পাত্র হয়ে উঠেছে তিন দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সদ্য গঠিত মুসলিম ন্যাটো। এই সামরিক সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য হল, তিন দেশের কোনও একটিতে যদি শত্রুর হামলা হয়, তবে সেই হামলাকে নিজের উপর হামলা হিসেবেই দেখবে বাকিরা। অর্থাৎ এক দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে। তবে বাস্তবে এই জোট একে অপরের পাশে কতখানি দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই। সেটাই স্পষ্ট করে দিল হাউথির এই হামলা।
