সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মায়ের প্রাণভিক্ষা চাইতে ইয়েমেনে পৌঁছে গিয়েছে নিমিশা প্রিয়ার ১৩ বছরের কন্যা মিশেল। তার কাতর আর্জি “আমার মাকে ফিরিয়ে দাও।” মিশেলের সঙ্গে রয়েছেন নিমিশার স্বামী টমি টমাস এবং গ্লোবাল পিস ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কে এ পল।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় ইয়েমেন সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে মিশেল বলে, “মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। দয়া করে আমার মাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করো। আমার খুব ইচ্ছে করছে মাকে দেখতে।” করুণ আবেদন শোনা যায় নিমিশার স্বামীর গলাতেও। তিনি বলেন, “দয়া করে নিমিশাকে বাঁচান। আমি ওকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই নিমিশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিয়েছে, যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনের একটা সীমা রয়েছে। তার বাইরে সরকার যেতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে নিমিশার প্রাণ আদৌ বাঁচবে কি না, তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।
উল্লেখ্য, এক ব্যক্তিকে হত্যার অপরাধে ২০১৭ সাল থেকে ইয়েমেনের জেলে বন্দি রয়েছেন নিমিশা। ২০১৮ সালে এই মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় ইয়েমেনের আদালত। তাঁর প্রাণ বাঁচাতে এত বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে এসেছে নিমিশার পরিবার। প্রবাসী ভারতীয় ওই যুবতীর প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছলে তা খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট রশিদ মহম্মদ আল আলিমি। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড রদ করতে তৎপর হয় বিদেশমন্ত্রক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনের এক হাসপাতালে কাজ করতেন। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী ও কন্যা ভারতে ফিরে এলেও নিমিশা সেখানে থেকে যান। উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে ক্লিলিক খোলা। সেখানে তালাল আবদো মেহদি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। দুজন মিলে সেখানে এক ক্লিনিক খোলেন। পরে এই ক্লিনিকের অংশীদারিত্ব নিয়ে অশান্তি বাধে দুজনের মধ্যে। নিমিশার পাসাপোর্ট কেড়ে নেয় সে। পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে কোনও ফল না হওয়ায়। অন্য পথে হাঁটেন তিনি। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই ওই ব্যক্তিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন নিমিশা প্রিয়া। উদ্দেশ্য ছিল, অভিযুক্ত ঘুমিয়ে পড়লে পাসপোর্ট উদ্ধার করবেন। তবে ওষুধের ওভারডোজের কারণে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই অবস্থায় অন্য একজনের সাহায্য নিয়ে মেহদির দেহ টুকরো করে জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন নিমিশা। এবং ইয়েমেন থেকে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান। বিচারপর্বে ২০১৮ সালে ইয়েমেনের আদালত নিমিশাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাঁর প্রাণরক্ষায় সবরকম চেষ্টা করেন নিমিশার মা প্রেমা কুমারী। ভারত সরকারও তাঁর পাশে দাঁড়ায়। এমনকি সাজার বিরুদ্ধে বিগত কয়েক বছর ঘরে অনেকগুলি আন্তর্জাতিক সংগঠন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
