ভারতের উপর ফের ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকা (US Tariff On India)। বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি দিল্লি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় দিল্লির তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, এখনও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা চলছে। দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শুল্কের বিষয়টিও চূড়ান্ত নয়।
মার্কিন আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের উপর এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর। মার্কিন আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের বিনিময়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতেই এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সংকটের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের।
এই বিষয়ে কেন্দ্রের বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতি, "৩০১ ধারা কার্যকর করার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। এছাড়াও, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে।" কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ধারা ২৩২-এর শুল্কের আওতায় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলির পাশাপাশি আরও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যকে প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও সবটাই এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের দাবি অনুযায়ী, যে ৬০টি দেশের উপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। হোয়াইট হাউসের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমিকদের কাজের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যে দেশগুলি ব্যর্থ হয়েছে এবং যারা এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে ব্যর্থ তাদের বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যে দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম-ভিত্তিক আমদানির ওপর পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক, এবং যারা এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেনি তাদের উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। যদিও এই প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পরই মার্কিন প্রশাসন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
