‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। শুধু তাই নয়, ইসলামাবাদকে ভাতে মারারও কৌশল নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে সিন্ধুর জল নিয়ে এবার ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী তথা পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
সিন্ধু নদের জল বন্ধ নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক স্তরেও বারবার অভিযোগও জানিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতি মঙ্গলবার সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদে আয়োজিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা। সিন্ধু চুক্তির বিষয়টি বিশদে খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সেমিনারে বক্তৃতা করতে গিয়ে ভুট্টো বলেন, "কেউ যদি মনে করেন যে পাকিস্তান সিন্ধু প্রদেশ ছেড়ে দেবে, তবে তারা পাকিস্তানকে চেনেন না। তারা সিন্ধুকে চেনেন না, পাঞ্জাবকে চেনেন না, বালোচিস্তানকে চেনেন না। চেনেন না খাইবার পাখতুনখোয়া, কাশ্মীর বা গিলগিট-বালতিস্তানকেও। তাঁরা সেই মানুষদেরও চেনেন না, যাঁরা হাজার হাজার বছর ধরে সিন্ধু নদীর তীরে বসবাস করছেন।” তিনি আরও বলেন, ""আমরা মর্যাদা এবং শান্তি চাই। আইনি পথে আমরা আলোচনা চাই। আমরা সহাবস্থান চাই। কিন্তু পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করবে না।"
এরপরই ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের ‘রক্তচক্ষু’ দেখান ভুট্টো। বলেন, "পাকিস্তানের জলের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার যে কোনও প্রচেষ্টার কড়া জবাব দেওয়া হবে। এই বিরোধ কেবল পরিবেশগত বা কূটনৈতিক নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বের সাথে জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির অন্যতম প্রধান একটি দিক হল- দেশটির অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার বা এর জলপথ অবরুদ্ধ করার প্রচেষ্টা। এর ফলে ইসলামাবাদ পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের মতো কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।"
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করেছে দিল্লি। যা নিয়ে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। বারবার দাবি করছে, ভারত নাকি এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু ভারত আগেও রাষ্ট্রসংঘে জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপর আস্থা রেখে, বিশ্বাস করে ৬৫ বছর আগে ভারত এই চুক্তি করেছিল। কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে ভারতের বুকে ৩টি যুদ্ধ ও হাজার হাজার জঙ্গি হামলা চালিয়েছে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা।
