ডেপুটির উপর আর আস্থা নেই। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে এবার নিজের জামাইয়ের উপর ভরসা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের জন্য ফের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান এবং আমেরিকা। প্রথম দফার বৈঠক চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার ফলে দ্বিতীয় দফায় নতুন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে দুই দেশই। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি হিসাবে বৈঠক করতে পারেন ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম লিডার-সহ একঝাঁক নেতৃত্বের মৃত্যু হয়েছে। তারপর প্রায় দেড়মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছে। তারপর ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। এই সময়টার মধ্যে দুপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটাবে, এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসে দুই দেশ। সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক শুরুর আগেই তা খারিজ করে দেয় ইরান। তাদের তরফে সাফ জানানো হয়, আমেরিকার কারণেই এই বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনাতেও আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকবেন না ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলকে নেতৃত্ব দেবেন কুশনার এবং উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বসতে পারেন বৈঠকে। তবে তেহরানের তরফ থেকে শান্তি বৈঠকের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। আদৌ তারা শান্তি বৈঠকে বসবে কিনা, জানা নেই।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার বৈঠক বাতিল করে ইরান জানিয়েছিল, ‘শান্তি স্থাপনের নামে আমেরিকা মাত্রাতিরিক্ত দাবিদাওয়া চাপাচ্ছে ইরানের উপর। ওয়াশিংটনের তরফে এমন কিছু শর্ত রাখা হচ্ছে যেটা একেবার অযৌক্তিক এবং অবাস্তব। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময়ে বারবার নিজেদের অবস্থান বদল করেছে আমেরিকা। নিজেদের মতামত প্রকাশ করেও সেটা পালটে ফেলছে।’বৈঠক শুরুর কয়েকঘণ্টা আগেই যুদ্ধং দেহি বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প স্বয়ং। এবার কি আলোচনার টেবিলে সাফল্য মিলবে? বন্ধ হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ?
