ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি সম্পন্ন হল আমেরিকার মধ্যস্থতায়। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইজরায়েল। আর তারপর ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনা। কিন্তু শান্তি কি ফিরবে? সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কেননা হেজবোল্লা জানিয়েছে, তারা চুক্তির বাস্তবায়নে কোনও রকম সহায়তা করবে না। সেই সঙ্গেই গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারিও দিতে দেখা গিয়েছে তাদের।
লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ ও ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার শুক্রবার ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপরই মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও দাবি করেন, এই যাত্রা যতই কঠিন হোক না কেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ''এটা শুরুর শুরু। এখনও অনেক কাজ বাকি।''
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তির মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও শান্তি ফেরেনি এখনও। এবার ইজরায়েল-লেবানন চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলায় কিনা সেটাই দেখার।
এই চুক্তির পরও কি শান্তি ফিরবে? 'কাঁটা' আপাতত হেজবোল্লা। তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করেছে। জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার সমর্থনে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত না হলে লেবানন প্রশাসন ওয়াশিংটনে সম্পাদিত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা ইজরায়েল-লেবানন সরাসরি বৈঠকের বিরোধিতা করে এসেছে। ফলে আশঙ্কা থাকছেই, চুক্তির পরও শান্তি অধরা থেকে যাওয়ার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই মারা যান। এই সময় থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য। তখন থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় হেজবোল্লা। লেবাননের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইজরায়েল সংঘাত চালাতে থাকে তাদের সঙ্গে। লেবাননে ঢুকে পড়ে ইজরায়েলি সেনা। তাদের হামলায় লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তির মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও শান্তি ফেরেনি এখনও। এবার ইজরায়েল-লেবানন চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলায় কিনা সেটাই দেখার।
