লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। ফের বদলাচ্ছে এই বাড়ির বাসিন্দা। ইস্তফা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এবার প্রধানমন্ত্রীর মসনদে নতুন মুখ। ফলে ডাউনিং স্ট্রিটের ওই বাড়িতে এবার তাঁর থাকার পালা। গত দশ বছরে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ব্রিটেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের এক বাসিন্দা দেড় দশক ধরে ঠায় বসবাস করে চলেছে। সে ল্যারি। ‘চিফ মাউসার’ বা প্রধান ইঁদুর শিকারি এই মার্জারের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে দিনে দিনে। রাজা আসে রাজা যায়, ল্যারি কিন্তু থেকেই যায়!
ইঁদুরের উপদ্রব সামলাতে ২০১১ সালে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে আনা হয় ল্যারিকে। লন্ডনের বিখ্যাত পশু আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ব্রিটেনের মসনদে ডেভিড ক্যামেরন। ল্যারির বয়স তখন চার। কেবল ইঁদুর ধরাই নয়, এই বাড়ির অতিথি অভ্যাগতদের অভ্যর্থনাও জানাতে দেখা যায় বিড়ালটিকে। তার নামে একটি প্যারডি অ্যাকাউন্টও রয়েছে এক্সে। যা বেশ জনপ্রিয়।
সেখানে একটি পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে ল্যারির বয়ান! মজা করে লেখা হয়েছে, 'আমার প্রধান সেবক হিসেবে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি। এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি তিনি আমাকে দিনে কতবার আহারের ব্যবস্থা করবেন তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য!' বলে রাখা ভালো, অ্যান্ডি বার্নহ্যামই ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এযাবৎ ছ'জন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বাস করেছে বছর উনিশের ল্যারি। তাঁরা হলেন ডেভিড ক্যামেরন, টেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক, কিয়ের স্টারমার। এই সময়কালে সে দেখেছে ব্রেক্সিট যুদ্ধ! দেখেছে নেতৃত্বের লড়াই, ক্যাবিনেটের রদবদল, নানা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি... এত সব দেখেও ল্যারি নিশ্চিন্ত। কেবল মানুষের কারণে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে বলে খানিক বিরক্তও! প্রধানমন্ত্রী যিনিই থাকুন, এই মার্জারের প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই থাকবে, এটাও বোধহয় দিব্যি বোঝে আদুরে বিড়ালটি।
