বিশাল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ফুলফেঁপে ওঠা জলদানব! তার ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও পথই নেই। যেন কয়েকশো বোমার তেজ রয়েছে সেই জলস্রোতের ভিতর। সামনে যা পাচ্ছে স্রেফ খেলনার মতো তছনছ করে দিচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। বলা হচ্ছে নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বান আর হিমবাহ হ্রদ ভাঙা জলস্রোতের ভয়াবহতার কথা। জোড়া ফলায় হিমালয়ের কোলে থাকা দেশটির চেহারাই বদলে গিয়েছে। চারদিকে শুধুই ধ্বংসের ছাপ।
কিন্তু তার মাঝেই অলৌকিক ঘটনা! জলদানবের হাঁ-মুখ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে ঠিক দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি দোতলা বাড়ি! তার চারপাশের সবই ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। কিন্তু হালকা সবুজ রঙা বাড়িটি অটুট। নেপালের ধ্বংসস্তুপের মাঝে এই বাড়ির ভিডিও এখন ভাইরাল। যেন অন্ধকার সময়টা সরিয়ে জীবনের নতুন গল্প বলছে এই বাড়ি।
বুধবার থেকে হড়পা বান আর হিমবাহ হ্রদের ভাঙনে যে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে নেপালে, তাতে বেঁচে থাকাটাই বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার। ভাগ্যই বলুন কিংবা প্রকৃতির হাজার অভিশাপের মাঝে বিরল এক আশীর্বাদই বলুন, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নেপালের ওই হালকা সবুজ দোতলা বাড়ি তারই ফল। নাম-ঠিকানা কিছু জানা নেই। শুধু চারপাশের দুরন্ত জলরাশি আর ভেঙেচুরে যাওয়া হাজার হাজার মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের মাঝে এক স্তম্ভ হয়ে রয়ে গিয়েছে এই বাড়িটি।
হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ ভাঙা জলের জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত নেপাল। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল হওয়া ওই বাড়ির ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির তিন সদস্য দোতলার ব্যালকনি থেকে চারপাশের অবস্থা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করছেন। নিজেরা প্রাণে বাঁচলে কী হবে, এলাকা যে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। হয়ত কিছুক্ষণ আগেও যে প্রতিবেশীর সঙ্গে গল্প করে এসেছেন সবুজ বাড়ির বাসিন্দারা, তাঁরাই মুহূর্তের মধ্যে জলের গ্রাসে চলে গিয়েছেন। আর কোনওদিন হয়ত দেখা হবে না।
নেপালে ঘোর বিপর্যয়ের মাঝেও অক্ষত এই সবুজ বাড়ি, ছবি: সোশাল মিডিয়া
নেপাল বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬০০। নিখোঁজ এখনও অনেকে। এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে নেপাল সম্প্রতি পড়েনি। ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ধুলিসাৎ হতে বসেছিল তথাগত বুদ্ধের দেশ। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি অনেক রাজনৈতিক উথালপাথালের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে নেপাল। সেখান থেকে বেরিয়েও এসেছে। কিন্তু এ যে স্বয়ং প্রকৃতির মার! এর থেকে নিস্তার পাওয়া যে কতটা কঠিন, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তা বেশ ভালোই জানে নেপাল। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবল দুর্যোগেও ভেঙে না পড়া সবুজ বাড়িটি।
