shono
Advertisement
Nepal

জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি করেও ব্যাকফুটে! দুর্যোগে দ্রুত পাশে দাঁড়ানোয় ভারতকে ধন্যবাদ নেপালের  

জরুরি সহায়তা, বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং ত্রাণসামগ্রী দ্রুত পাঠানোর জন্য ভারত ও চিনকে নেপালি সংসদের ভাষণ ধন্যবাদ জানান বলেন্দ্র শাহ।
Published By: Kishore GhoshPosted: 05:26 PM Sep 02, 2026Updated: 06:06 PM Sep 02, 2026

২৬ আগস্টের ভয়ংকর হড়পা বান ও বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে নেপাল। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি, ত্রাণের ব্যবস্থাও করছে দিল্লি। এভাবে সাহায্যের হাত বাড়ানোয় বুধবার পালটা ভারতকে ধন্যবাদ জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। একই কারণে চিনকেও কৃতজ্ঞবার্তা দিয়েছে কাঠমান্ডু।

Advertisement

জরুরি সহায়তা, বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং ত্রাণসামগ্রী দ্রুত পাঠানোর জন্য ভারত ও চিনকে নেপালি সংসদের ভাষণ ধন্যবাদ জানান বলেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, "আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র চিন ও ভারত বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিল। প্রথম দিন থেকেই তারা বিধ্বস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বুঝতে, সেখানে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে আকাশপথে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।" দুর্যোগের ভয়াবহতা এবং কঠিন উদ্ধারকাজের কথাও উল্লেখ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "এটি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ঘটনাস্থলে কাদা ও পলি এত বেশি যে, কেবল খননযন্ত্রই নয়, সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও দাঁড়াতে পারছেন না।" এহেন বাধা ডিঙিয়েই কাজ চলছে।

নেপাল প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ধ্বংসযজ্ঞে প্রাণ গিয়েছে ১১২৭ জনের। নিখোঁজ ৪৮৫৮ জন। এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৬৫৪১ জনকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই। মনে করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। ভঙ্গুর অর্থনীতি মধ্যে এত বড় বিপর্যয়ে কার্যত দিশাহারা বলেন্দ্র শাহ সরকার। এই অবস্থায় গতকাল ভারত ও চিনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল নেপাল।

নেপালের বিদেশমন্ত্রীর অভিযোগ, “শিল্পায়নের কারণে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণের দিক দিয়ে চিন বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে আমেরিকা ও ভারত।"

নেপালের দাবি, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলির জন্যই মাশুল দিতে হচ্ছে কাঠমান্ডুকে। সেই তালিকায় চিন, ভারত এবং আমেরিকার নাম উল্লেখ করেছে বলেন্দ্র শাহের দেশ। ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এই বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু সংকটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ বিশ্বের বড় দেশগুলির তুলনায় অত্যন্ত কম। অথচ হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলে যাওয়া, পাহাড়ের বুকে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামির মতো বিভিন্ন সংকটের মূল্য চোকাতে হচ্ছে আমাদের। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এগুলি হচ্ছে।” আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নেপাল যে তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে, সে কথাও জানিয়েছেন শিশির। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের কূটনৈতিক অবস্থানে বদল আনছি। আর সাহায্য নয়। এবার ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দিকে আমরা যাচ্ছি। এটি কোনও দয়া-দাক্ষিণ্যের বিষয় নয়। বরং আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’’

নেপালের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, “শিল্পায়নের কারণে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণের দিক দিয়ে চিন বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে আমেরিকা ও ভারত। তাই নেপালের মতো দেশগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়বদ্ধতা তাদের রয়েছে।” শিশির স্পষ্ট করেছেন, ক্ষতিপূরণ চাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না কি নেপাল ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত দৃঢ়তা ও স্পষ্টতার সঙ্গে কাঠমান্ডু বিষয়টি উত্থাপন করবে। শিশির বলেন, “এটি আমাদের সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্ন। হিমালয়ের হিমবাহগুলি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ, যাঁরা গঙ্গা ও ত্রিশূলির মতো নদীর উপর নির্ভরশীল, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা কেবল নেপালের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্বার্থেই এই দাবি জানাচ্ছি।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement