জোনাই দত্ত, অক্সফোর্ড: ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী তিনি। একাধারে মরমী কবি, সুলেখক। বাংলার এই প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই প্রান্তিক মহিলাদের ক্ষমতায়নের নবদিগন্ত খুলে গিয়েছে। আবার তাঁর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই প্রজন্মকে চিনিয়েছে শিকড়ের টান। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় এভাবেই মেলে ধরে তাঁকে স্বাগত জানাতে তৈরি 'মেধা-স্বর্গ' অক্সফোর্ড। ৯২৯ বছরের ঐতিহ্য বয়ে চলা বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতা দেবেন কাল, বৃহস্পতিবার। তবে তার আগে ইতিমধ্যেই তাঁর কাজের বিপুল পরিধি তুলে ধরে প্রচার সারা অক্সফোর্ড অঙ্গনে। কলেজের নোটিস বোর্ড থেকে ইথার ছোঁয়া হরেক প্রচার তরঙ্গে। বাম ও অতিবাম 'গণশত্রু'রা তাঁর সফরকে যতই কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করুক, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অনন্য কর্মধারার সুবাদে ব্রিটিশ-দুনিয়ায় এবার নয়া আঙ্গিকে উঠে আসতে চলেছে বাংলা।

অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের এই হলেই মুখ্যমন্ত্রীর সভা।
পূর্ণ ও আংশিক সময়ের নিরিখে অক্সফোর্ডে এই মুহূর্তে পড়ুয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কেলগ কলেজেই। সেই 'কলেজ-হাব'-এ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে সমারোহ। আপ্যায়ন-পর্ব সেরে মূল আলোচনা শুরু সাড়ে পাঁচটায় (ভারতীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ)। মঞ্চে বাংলার জনপ্রিয় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও থাকবেন কলেজের সভাপতি অধ্যাপক জোনাথন মিচি এবং এই কলেজেরই 'ফেলো' তথা বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী লর্ড করণ বিলিমোরিয়া। আলোচনার ধাঁচেই এগোবে বক্তৃতা, যার শিরোনাম 'সামাজিক উন্নয়ন- বালিকা, শিশু এবং নারীর ক্ষমতায়ন'। সূত্রের খবর, অধ্যাপক মিচি ও করণ বিলিমোরিয়া অনেকটা সূত্রধারের মতো প্রসঙ্গের অবতারণা করবেন। আর সেই অনুষঙ্গেই নিজের অভিজ্ঞতা ও কর্মধারার মিশেলে মূল্যায়ন তুলে ধরবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এক ঘণ্টার এই বক্তৃতা তথা আলোচনাপর্ব সাড়ে ছ'টায় শেষ হওয়ার পর মিনিট পনেরোর বিরতি। সূচি অনুযায়ী, এরপর স্থানীয় রীতি মেনে পানভোজন-পর্বেও মত বিনিময়ের অবকাশ থাকছে। অক্সফোর্ডের যে কোনও কলেজেই এই ধরনের বক্তৃতার পর বক্তার সঙ্গে প্রশ্নোত্তর চলার রীতি রয়েছে। সেই সুবাদে পানাহার চলাকালীন খানিকটা ওপেন সেশনের ধাঁচে প্রশ্নোত্তরের অবকাশ থাকছে। যদিও এই বিষয়টি এখনও নির্ধারিত হয়নি বলেই খবর।
বাংলায় কিশোরীদের নয়া স্বপ্নের উড়ানে সওয়ার হওয়ার সোপান যে 'কন্যাশ্রী', তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই 'ব্রেন চাইল্ড'। গোটা দেশে তো বটেই, সারা বিশ্বেও এই প্রকল্প অদ্বিতীয়। যার স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকোও। আবার বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় স্রেফ দূরত্বের অজুহাতে স্কুলের গণ্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা কন্যা-কৈশোর যে আজ বিদ্যালয়মুখী, তার কৃতিত্বও মমতারই। সৌজন্যে তাঁর জনমুখী 'সবুজ সাথী'। দু-চাকার সাইকেল সত্যিই জীবনের দিশাই বদলে দিয়েছে গ্রাম-গ্রামান্তরে এতকাল গুমরে থাকা অগণিত ছাত্রীর। আবার স্বনির্ভর গোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়নে হয়ে উঠেছে সুদূরপ্রসারী। আর সেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজের পরিধি দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলে বাজারমুখী করে তোলার ভাবনাও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই (Mamata Banerjee)। শিশু থেকে বালিকা এবং নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের নিরিখে এই বিষয়গুলি তাঁর বক্তৃতার আগে অক্সফোর্ড অঙ্গনে টুকরো আলোচনায় উঠে আসছে মমতার পরিচিতিতে। এবং অবশ্যই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পও। ভারতের বরিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনীতিবিদের বক্তৃতার যে বিজ্ঞপ্তি কলেজে দেওয়া হয়েছে, তার বয়ানে বলা হয়েছে-'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুচারু নেতৃত্বে সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নে সবিশেষ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলা'।
অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের এই হলেই মুখ্যমন্ত্রীর সভা।
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কলেজে আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণ আমন্ত্রণমূলক। তবে বক্তার পরিচিতি ও কাজের পরিধির নিরিখে ব্যতিক্রমও হয়ে থাকে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সেদিনের বক্তৃতা হতে চলেছে তেমনই আর এক ব্যতিক্রম। কেলগ কলেজ হাবে সেদিনের ওই আলোচনা ও বক্তৃতা সভায় প্রবেশ রাখা হয়েছে অবাধ। রীতি অনুযায়ী অগ্রিম আসন সংরক্ষণ-পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। সশরীরে হাজির হতে তো বটেই, অনলাইনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনতেও বিপুল আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। কলেজের দেওয়া লিঙ্ক খুলে বক্তৃতা সভার 'লাইভ স্ট্রিমিংয়ে'র সাক্ষীও হতে চলেছেন অনেকে। মেধা ও মননের বিশ্বে এক নম্বরে থাকা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় তো বটেই, বঙ্গজ পড়ুয়ার সংখ্যাও যথেষ্ট। স্বভাবতই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা ঘিরে সংশ্লিষ্ট সেই মহলেও আগ্রহ তুঙ্গে।