পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যদি কোনও দুঃসাহসিক পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে তা নয়াদিল্লির জন্য তা ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে ভারতকে এই ভাষাতেই হুমকি দিলেন পাক সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির।
সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুনির। সেখানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের শত্রুদের মনে রাখা উচিত, ভবিষ্যতে যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও অপকর্ম চালানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুদ্ধের প্রভাব সীমিত থাকবে না, বরং তা হবে অত্যন্ত ব্যাপক, বিপজ্জনক, সুদূরপ্রসারী ও বেদনাদায়ক হবে। বিশেষ করে নয়াদিল্লির জন্য এর পরিণতি ভয়ংকর হবে।” মুনিরের অভিযোগ, গত বছরের সামরিক সংঘাতের সময় ভারত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদ এর জবাবে ‘পূর্ণ সামরিক শক্তি’ প্রয়োগ করেছে। তাঁর আরও দাবি, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এই সংঘাত নিছক যুদ্ধ ছিল না বরং প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল দু'টি মতাদর্শের মধ্যে সংগ্রাম, যেখানে আল্লার জয় হয়েছিল। মিথ্যার পরাজয় ঘটেছে।"
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় কাশ্মীরের স্থানীয় এক জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন চালায় ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একধিক বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
