shono
Advertisement
Nepal's First Woman Helicopter Captain Priya Adhikari

নেপালের প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন! ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে শয়ে শয়ে প্রাণ বাঁচালেন ‘ঈশ্বরের দূত’ প্রিয়া

গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানে তছনছ হয়ে যায় নেপাল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু সড়ক এবং সেতু। ফলে দুর্গতদের বাঁচাতে কপ্টার ছাড়া আর কোনও কোনও মাধ্যম ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ৪১ বছর বয়সি প্রিয়া একটানা প্রায় ছ’দিন ১০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিতে এনেছেন শয়ে শয়ে অসহায় মানুষকে।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 01:56 PM Sep 02, 2026Updated: 02:09 PM Sep 02, 2026

বিধ্বংসী বন্যার তাণ্ডবে নেপালজুড়ে হাহাকার। চারদিকে শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুকান্না। এসবের মাঝেই একটানা আকাশে উড়ে চলেছে একের পর এক হেলিকপ্টার। ভয়ংকর এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই শয়ে শয়ে প্রাণ বাঁচালেন নেপালের প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। গৌতম বুদ্ধের দেশে তিনিই এখন ‘ঈশ্বরের দূত’। 

Advertisement

গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানে তছনছ হয়ে যায় নেপাল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু সড়ক এবং সেতু। ফলে দুর্গতদের বাঁচাতে কপ্টার ছাড়া আর কোনও কোনও মাধ্যম ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ৪১ বছর বয়সি প্রিয়া একটানা প্রায় ছ’দিন ১০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিতে এনেছেন শয়ে শয়ে অসহায় মানুষকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'সিএনএন'কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়া এই উদ্ধার অভিযানকে তাঁর দেখা সবচেয়ে কঠিন অভিযান হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের চেয়েও এই উদ্ধারকাজ ছিল বেশি কঠিন। কারণ, ধ্বংসযজ্ঞের বেশিরভাগই একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় কেন্দ্রীভূত ছিল। একটানা উদ্ধার অভিযানের ফলে আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি।"

কেবিন ক্রু হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন প্রিয়া। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়া একজন অভিজ্ঞ 'হাই আলটিউড' হেলিকপ্টার পাইলট। হিমালয়ে পর্বতারোহীদের উদ্ধার থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া - দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়ে আসছেন। কিছু কিছু বিশেষ অভিযানে তাঁকে প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্তও যেতে হয়েছে। ২০১৫ সালেও নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন প্রিয়া।

২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন প্রিয়া। ছবি: সংগৃহীত।

তবে তাঁর পাইলট হওয়ার যাত্রা সহজ ছিল না। তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কর্মজীবন শুরু করেন কেবিন ক্রু হিসাবে। কিন্তু জীবনে প্রথম হেলিকপ্টারে সওয়ার হওয়ার পর তাঁর পাইলট হওয়ার বাসনা জাগে। সেই লক্ষ্যেই কপ্টার চালানোর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ফিলিপিন্সে যান। প্রয়োজনীয় 'ফ্লাইং আওয়ার্স' সম্পন্ন করার পর, ২০১৭ সালে তিনি পুরোদস্তুর হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে অধিক উচ্চতায় উদ্ধারকাজ চালানোর বিশেষ দক্ষতাও অর্জন করেন প্রিয়া।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement