বিনোদন নগরী হিসাবে গোটা বিশ্বে পরিচিত থাইল্যান্ডের শহর পাটায়া। সেখানেই আচমকা যৌনপল্লীগুলিতে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর, বুধবার মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' পাটায়াতে নোঙর করবে। 'খদ্দেরে'র আগমনে হাসি ফুটেছিল নিশি ব্যবসায়ীদের মুখে। ঠিক তার আগে যৌনকর্মীদের উপর কড়াকড়ি শুরু করেছে প্রশাসন। উল্লেখ্য, ৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার অবধি পাটায়াতেই থাকবে মার্কিন সেনার জাহাজটি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গত ২৫০ দিন সমুদ্র কাটানোর পর পাঁচ হাজার মার্কিন সেনাকর্মী বিনোদনের খোঁজেই পাটায়াতে হাজির হচ্ছেন বলে খবর।
কাগজে কলমে দেহ ব্যবসা নিষিদ্ধ থাইল্যান্ডে। ফলে প্রকাশ্যে 'খদ্দের' খোঁজা, পতিতালয় চালানো এবং যৌনকর্ম থেকে মুনাফা অর্জনের মতো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ গোটা দেশে। যদিও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের দাবি, থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা ব্যাপকভাবে প্রচলিত। বিশেষ করে পাটায়াতে। এমনকী বিষয়টির প্রতি প্রশাসন খানিক সহনশীল বলেও অভিযোগ। মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী এফবিআই পাটায়াকে "বিশ্বের অন্যতম প্রধান যৌন পর্যটনকেন্দ্র" হিসেবেও চিহ্নিত করেছিল। সেখানেই হঠাৎ যৌনপল্লীতে ধরপাকড় কেন?
থাই সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর খবর পেতেই কর্তৃপক্ষ পতিতাবৃত্তির নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। শহরজুড়ে যৌনকর্মী-সহ প্রায় ৫০ জনকে আটক করেছে। প্রশাসনের এই বাড়াবাড়িকে ভালোভাবে দেখছে না পাটায়ার ব্যবসায়ীরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শহরের অর্থনীতিতে ভাটা পড়েছে। এই অবস্থায় ৫ হাজার মার্কিন সেনার আগমনে তাঁরা খুশিই হয়েছিলেন। ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা 'খদ্দের' পেয়ে চাঙ্গা হবে বলেই মনে করছিলেন তাঁরা।
থাই সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন সেনা জওয়ানদের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চলেছে প্রশাসন। যেমন গাঁজার দোকান, ওষুধের দোকান এবং কিছু নির্দিষ্ট ওয়াটার স্পোর্টসে নিষেধাজ্ঞা। তাঁরা ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ (পাটায়ার যৌনপল্লি) পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে রাত ২টোর পর বিয়ার বার বা নৈশ বিনোদনের স্থানে থাকতে পারবেন না। থাই পিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মার্কিন জওয়ানদের সঙ্গে যৌন ব্যবসা করা যাবে না। এমনকী যৌনপল্লীগুলিতে টহল দেওয়া শুরু করেছে পুলিশ।
বলা বাহুল্য, গোটা বিষয়টিতে চটেছে থাইল্যান্ডের নিশি ব্যবসায়ী তথা যৌন ব্যবসায়ীরা। যদিও মার্কিন সেনাকর্মীদের নিয়ে সতর্কতার কারণ রয়েছে। ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ হিউম্যানিটিস অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক পিপাতপং ফাকফারে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা ভেবেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। যেহেতু বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সমাগমে যৌনরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।
