মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্যে কূটনীতিই অগ্রাধিকার, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে ইরান। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এ কথাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, এই যুদ্ধে হরমুজ হল আল্লার দেওয়া উপহার। কোনওভাবেই হরমুজে নিজেদের অবস্থান ছাড়বে না তেহরান।
শান্তির পথ খুঁজতে গত মঙ্গলবার শান্তি বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! তবে ইরানের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, ইরানের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে এই বৈঠক ডেকেছে আমেরিকা। যার জেরে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। যার জেরে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় শান্তি বৈঠকে যোগ দেয়নি ইরান। এর ঠিক পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ঘালিবাফ।
তিনি বলেন, "আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতিই আমাদের অগ্রাধিকার। তবে যদি আলোচনা বাস্তবায়িত না হয়, সেক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্যও আমরা প্রস্তুত। এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপরই ইরানের বর্তমান বৈঠকগুলো কেন্দ্রীভূত। সমঝোতার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনও আলোচনায় অংশ নেবে না।" এছাড়াও পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে তিনি বলেন, "ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র যাবতীয় শর্ত পালন করা হচ্ছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক অধিকার এবং রেড লাইনগুলো নিয়ে কোনও আপোষ করা হবে না।"
ঘালিবাফ বলেন, "আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতিই আমাদের অগ্রাধিকার। তবে যদি আলোচনা বাস্তবায়িত না হয়, সেক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্যও আমরা প্রস্তুত। এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে।"
পাশাপাশি হরমুজ ইস্যুতে নিজেরদের অবস্থান স্পষ্ট করে ঘালিবাফ বলেন, "এটি আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। কোনও অবস্থাতেই আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না।" হরমুজকে আল্লার উপহার বলে দাবি করে তিনি বলেন, "এই যুদ্ধের সময় আল্লা আমাদের যে উপহার দিয়েছেন, সেটিই হরমুজ প্রণালী। এটি আমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস।"
