অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার বর্বরতা ঘিরে শোরগোল চলছেই। সমালোচনার মুখে এবার পিওকে নিয়ে সুর নরম করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জানালেন, তাঁদের সরকার আলোচনায় বসতে রাজি। তাঁর কথায়, ''যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, সেটা কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসে মেটানো সম্ভব।''
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এহেন অবস্থান কিছুটা অপ্রত্যাশিত। প্রসঙ্গত, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সমাজ। অর্থনৈতিক সংকট, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বঞ্চনা, একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানোর জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। তার উপরে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা এই বিক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরই মধ্যে ভোট হয়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে। তাতেও অশান্তি অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে শাহবাজ বলছেন, ''আজও আমি বিশ্বাস করি যে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।''
আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি শরিফ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্টে লিপ্ত বলে তিনি যাদের অভিযুক্ত করেছেন, তাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নৈরাজ্য ছড়াতে বদ্ধপরিকর, তাদের তা করতে দেওয়া হবে না।" তিনি আরও বলেন, যারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, তাদের ক্ষেত্রে সরকার ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করবে।
বলে রাখা ভালো, শাহবাজের এহেন মন্তব্যের দিনদুয়েক আগে শনিবার পাক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লা বলেন, “বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জঙ্গি নয়। ৯৯ শতাংশই দেশপ্রেমিক।” এবার শাহবাজও আলোচনার প্রসঙ্গ তুললেন। আসলে পিএকে-তে হওয়া আন্দোলনে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বস্তিতে পাকিস্তান। আর সেই কারণেই এবার সুর নরম করছে শাহবাজ সরকার, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
