ফিরল মিনাবের দগদগে স্মৃতি। ইরানে একটি শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালে ভয়ংকর হামলা চালাল আমেরিকা। তবে ঘটনায় হতাহতের খবর এখনও মেলেনি। কিন্তু হামলার জেরে হাসপাতালটির একটি বিরাট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের বন্দর শহরগুলিতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে আহওয়াজ শহরে ‘শহিদ বাঘাই’ নামে শিশুদের একটি ক্যানসার হাসপাতালে পরপর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সেনা। জানা গিয়েছে, সেই সময় হাসপাতালে বহু শিশুর চিকিৎসা চলছিল। হামলার পরই সেখানে হুলস্থুল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি হাসপাতালটি খালি করে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এই হাসপাতালটি আহওয়াজের অন্যতম বড় ক্যানসার হাসপাতাল। তবে হামলায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। অন্যদিকে, এদিন রাতে পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক, রাস্ক সিটি, খন্দবের মতো ইরানের বন্দর শহরগুলি। তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকও। ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ জন। আহতের সংখ্যা শতাধিক।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ফের বাধা সৃষ্টি করছিল ইরানি সেনা। শুধু তাই নয়, আমেরিকা যে অবরোধ তৈরি করেছে, সেটিও ভাঙার চেষ্টা হচ্ছিল। তাই তাদের শিক্ষা দিতেই হরমুজ সংলগ্ন ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়। গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে একটি ইরানি ট্যাঙ্কারও। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার 'রক্তচক্ষু' তারা পরোয়া করে না। মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে হরমুজ বন্ধই থাকবে। পাশাপাশি, নিশানা করা হবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিগুলিকেও।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন মিনাবের শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে আছড়ে পড়ে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল। চোখের নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বালিকা বিদ্যালয়টি। মৃত্যু হয় ১৬৮ জনের। অধিকাংশই ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে ইজরায়েল বা আমেরিকা, কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল ওই স্কুলে। আর এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা।
