মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ইজরায়েল-লেবানন সংঘর্ষবিরতির চুক্তির মাধ্যমে। কিন্তু আদৌ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি কি ফিরবে? এই প্রশ্ন তুলে দিল ইরানের উপরে আমেরিকার হামলার ঘটনা। আমেরিকা জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে নিশানা করা হয়েছে উপকূলীয় রাডার কেন্দ্রগুলিকেও।
শুক্রবারই একটি মালবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছিল তেহরানের বিরুদ্ধে। এরপরই আমেরিকার এই হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলাকে 'বোকার মতো' যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধবিরতির মউ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কোনও বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা জানানো যেত। কিন্তু তা না করে এভাবে হিংসা ছড়ালে পালটা হিংসাতেই তার জবাব দেবে ওয়াশিংটন। তাঁর এহেন মন্তব্যের পর জোর জল্পনা, তাহলে কি পশ্চিম এশিয়ায় ফের জোরালো হবে যুদ্ধের আগুন?
প্রসঙ্গত, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে আমেরিকার মধ্যস্থতায়। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইজরায়েল। আর তারপর ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনা। কিন্তু শান্তি কি ফিরবে? সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কেননা হেজবোল্লা জানিয়েছে, তারা চুক্তির বাস্তবায়নে কোনও রকম সহায়তা করবে না। সেই সঙ্গেই গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারিও দিতে দেখা গিয়েছে তাদের। এর মধ্যেই এবার আমেরিকার হামলায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় আরও বড় প্রশ্নচিহ্নের জন্ম হল।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে শান্তি বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে কয়েকদিন আগেই একটি মউ স্বাক্ষর করেছে ইরান এবং আমেরিকা। কিন্তু সমঝোতাপত্রের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়িত এবং পর্যালোচনা করতেই মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। কিন্তু বৈঠকটি কতটা ইতিবাচক, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, সূত্রের খবর, প্রথম ৮০ মিনিট সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয় আলোচনা। কিন্তু তারপর একটি বিরতি নেওয়া হয়। বিরতির পর ফের মুখোমুখি বসার কথা ছিল দু’পক্ষের। কিন্তু তার মাঝেই ট্রাম্পের হুমকির জেরে বৈঠক ছাড়েন ইরানি প্রতিনিধি দল।
