যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) উন্মুক্ত করার বিষয়ে ৬০ দেশের বৈঠকে সরব হল ভারত। ব্রিটেনের ডাকা হাই প্রোফাইল বৈঠকে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, ভারতই একমাত্র দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজে যাদের একাধিক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধে না জড়িয়েও এত বড় ক্ষতি হয়েছে। ফলে বৃহস্পতি রাতে হওয়া হরমুজ উন্মুক্তকরণ বৈঠকে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সওয়াল করে নয়াদিল্লি।
হরমুজ গোটা বিশ্বের 'তৈল ধমনী'। যুদ্ধের জেরে যা বন্ধ হওয়ায় অসংখ্য দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বৃহস্পতি রাতে রাতে ৬০ দেশকে নিয়ে বৈঠকে বসে ব্রিটেন। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। বৈঠকে ভারত কী বক্তব্য রেখেছে, শুক্রবার সেই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সেখানে জানানো হয়েছে, "বৈঠকে বিদেশ সচিব ভারতে জ্বালানি সংকট এবং দেশে তার প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। এইসঙ্গে মনে করিয়ে দেন--- উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলায় একমাত্র ভারতের নাবিকের মৃত্যু হয়েছে।"
আন্তর্জাতিক বৈঠকে মিসরি মনে করিয়ে দেন, জ্বালানি সংকটে ভারত অস্বস্তিতে পড়ায় তার প্রভাব পড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হল অবিলম্বে যুদ্ধের অবসান। যত বড় সমস্যাই হোক সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে কূটনীতি ও আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বের জন্য তো বটেই হরমুজ ভারতের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তেলের পরই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সার। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমদানির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই বাসমতী চাল রপ্তানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ নির্ভর করে এই প্রণালীর উপর। সারা বিশ্বের ১৫ শতাংশ অ্যালমনিয়াম সাপ্লাই হয় ওই এলাকা দিয়েই।
