কথায় আছে, ‘মুখের কথাই মানুষের পরিচয়’। কিন্তু আজকালকার দিনে কারণে-অকারনে মুখ খারাপ করা অনেকেরই অভ্যাস। সামান্য কারণেই রেগে আগুন। মুখ থেকে বেরোচ্ছে খই-এর মতো গালিগালাজ! ভাবছেন, এ তো খুব স্বাভাবিক। এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কী? কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্রে বলছে অন্য কথা। এই স্বভাবের কারণে অলক্ষ্যেই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়ে যাচ্ছে। রুষ্ট হচ্ছেন বুধ গ্রহ। আর বুধ বিগড়ে গেলে জীবন নিমেষেই তছনছ হতে পারে। জানলে শিউরে উঠবেন।
জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধকে বলা হয় বুদ্ধির কারক, বাণীর দেবতা। আপনার চারপাশের মানুষের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে এই বুধ। যখনই কেউ কথায় কথায় কটু কথা বলেন বা গালিগালাজ করেন, তখন বুধের কুপ্রভাব সক্রিয় হয়ে ওঠে। কুণ্ডলীতে বুধ দুর্বল হলে সবার আগে তার প্রভাব পড়ে মানুষের জিভে ও চিন্তাভাবনায়। মুখ থেকে বের হওয়া নেতিবাচক শব্দ বুধের শুভ শক্তিকে নিমেষের মধ্যে ধ্বংস করে দেয়।
ফাইল ছবি
জীবনে কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
ব্যবসায় ভরাডুবি: বুধ ব্যবসার কারক গ্রহ। মুখের ভাষার কারণে কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট কমতে থাকবে। ব্যবসায়ীদের জন্য মুখের মধুরতা লক্ষ্মী লাভের চাবিকাঠি। মুখ খারাপ করলে লক্ষ্মী দেবী রুষ্ট হন।
কর্মক্ষেত্রে অবনতি: অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাদ লেগেই থাকবে। বসের চোখে আপনার ইমেজ খারাপ হবে। ফলে প্রমোশন বা বেতন বৃদ্ধি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পর্কে ফাটল: সংসার হোক বা প্রেম, শুধু কথার ভুলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে যেকোনও মধুর সম্পর্ক। কাছের মানুষরা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করবে।
বুদ্ধিভ্রম ও সিদ্ধান্তহীনতা: বুধ দুর্বল হলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায়। মানুষ তখন নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলে।
ফাইল ছবি
প্রতিকারের উপায় কী?
ভাগ্য ফেরাতে দামি রত্ন ধারণের আগে নিজের অভ্যাস বদলানো জরুরি। জ্যোতিষীদের মতে, বুধকে শান্ত ও শক্তিশালী করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা।
১. কথা বলার আগে ভাবুন: কোনও মন্তব্য করার আগে অন্তত তিন সেকেন্ড সময় নিন।
২. মিষ্টি ভাষা প্রয়োগ: যেকোনও কঠিন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় ও মিষ্টি মুখে সামলানোর চেষ্টা করুন।
৩. সবুজ রঙের ব্যবহার: বুধের প্রিয় রং সবুজ। প্রতিদিনের জীবনে সবুজ রঙের পোশাক বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন।
৪. গাছের যত্ন: বাড়িতে ছোট ছোট গাছ লাগান, বিশেষ করে তুলসী গাছ। গাছের যত্ন নিলে বুধের দশা কাটে।
