বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এবং সুপারস্টার রজনীকান্তের মধ্যে মিল কোথায় বলুন তো? অভিনয়ের জাদু তো আছেই। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, তাঁদের ভাগ্য একই সুতোয় বাঁধা। দু’জনেরই জন্ম শ্রবণ নক্ষত্রে! বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে, চন্দ্র ও শনির যুগল প্রভাবে গঠিত এই নক্ষত্র মানুষকে শুধু খ্যাতির শিখরেই পৌঁছে দেয় না, গড়ে তোলে এক অনন্য মানসিক গড়ন। কী সেই গোপন রহস্য? শ্রবণ নক্ষত্রে জন্মালে ব্যক্তিত্বে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ফাইল ছবি
শ্রবণ নক্ষত্রে জন্মগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্ব
বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে, শ্রবণ হল রাশিচক্রের ২২ নম্বর নক্ষত্র। এই নক্ষত্রের অধিপতি স্বয়ং চন্দ্র এবং এটি শনিদেবের অধিপতি রাশি মকরের অন্তর্ভুক্ত। ফলে শ্রবণ নক্ষত্রে জন্মানো ব্যক্তিদের মধ্যে শনির কঠোর শৃঙ্খলা এবং চন্দ্রের সংবেদনশীলতার এক অদ্ভুত প্রকাশ দেখা যায়। মকর রাশিতে শ্রবণ নক্ষত্রে জন্ম বলেই শাহরুখ খান কিংবা রজনীকান্তের ব্যক্তিত্বে এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। জ্যোতিষ মতে, এই নক্ষত্রের জাতকরা বস্তু জগতের মোহ বেছে নিলে তাতে জড়িয়ে পড়েন, আবার অন্তর্মুখী হলে গভীর ধ্যানে ডুব দিতে পারেন।
শ্রবণ নক্ষত্রে জন্মানো মানুষদের প্রধান শক্তি হল এদের প্রখর অন্তর্দৃষ্টি বা ইনটুইশন ক্ষমতা। কোনও পরিবেশ বা পরিস্থিতি সঠিক মনে না হলে এরা সহজে তা মেনে নেন না। প্রয়োজনে বিদ্রোহ করতেও পিছপা হন না। কোনও ফলাফলের আশা না করেই অতীতকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিরল ক্ষমতা এদের মধ্যে রয়েছে। এরা নিজেদের অন্তরাত্মার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেন। এই অনন্য মানসিক দৃঢ়তার জোরেই এরা সাধারণ অবস্থান থেকে অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে যান।
ছবি: সংগৃহীত
চরিত্রের কিছু দুর্বলতা
উজ্জ্বল দিকের পাশাপাশি শ্রবণ নক্ষত্রের জাতকদের কিছু নির্দিষ্ট দুর্বলতাও থাকে। মাঝেমধ্যে এরা অত্যন্ত গোঁড়া এবং একগুঁয়ে মনোভাবাপন্ন হয়ে ওঠেন। অহেতুক পরচর্চায় সময় নষ্ট করার একটা প্রবণতা এদের মধ্যে দেখা যেতে পারে। অথচ নিজেদের সমালোচনা হলে এরা দ্রুত তাতে সাড়া দিতে অভ্যস্ত। জীবনের প্রথমভাগে নানাবিধ বিভ্রান্তি, হীনমন্যতা কিংবা অন্যদের ঈর্ষাজনিত শত্রুতার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এই খামতিগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে এরা চরম সাফল্য লাভ করেন। এই নক্ষত্রেই জন্মেছেন চিত্রতারকা মনোজ কুমার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বরুণ গান্ধীও।
ফাইল ছবি
প্রসঙ্গত, পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র শ্রবণ নক্ষত্রে অবস্থান করে বলেই এই মাসের নাম হয়েছে 'শ্রবণ'। আর চন্দ্র যেহেতু দেবাদিদেব মহাদেবের মস্তকে বিরাজ করেন, তাই শ্রবণ মাস শিব আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়।
