এবারের দোল বাঙালির জীবনে নিয়ে আসছে এক বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর পর দোলের দিনে চন্দ্রগ্রহণ ও অশুভ ভদ্রকাল একসঙ্গে সমাপতিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই বসন্ত উৎসব তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পণ্ডিতদের মতে, এই বিরল জ্যোতিষীয় যোগে সঠিক নিয়ম মেনে পূজা এবং বিশেষ কিছু দ্রব্য দান করলে রাতারাতি ভাগ্য বদলাতে পারে। সংসারে শ্রীবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
ফাইল ছবি
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি ২ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে শুরু হয়ে ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৫টা ৭ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে হোলিকা দহনের বিধি। তবে ২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে সারারাত ‘ভদ্র’ বা অশুভ সময়ের প্রভাব থাকবে। তাই সময়নিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। ২ মার্চ সন্ধ্যায় মাত্র ১২ মিনিট এবং মধ্যরাতে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের একটি বিশেষ শুভ মুহূর্ত থাকছে হোলিকা দহনের জন্য। পরদিন অর্থাৎ ৩ মার্চ পালিত হবে ধুলান্দি বা মূল দোল উৎসব।
ফাইল ছবি
এই বিশেষ তিথিতে অশুভ শক্তি ও নেতিবাচকতা থেকে বাঁচতে আধ্যাত্মিক সাধনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হোলিকা দহনের সময় নাম জপ, গুরু মন্ত্র জপ, মন্ত্রপাঠ অথবা রামায়ণ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। আধ্যাত্মিক শুদ্ধির জন্য এটি এক শক্তিশালী সময়।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, হোলিকা দহনের দিন কিছু নির্দিষ্ট জিনিস দান করলে পুণ্য অর্জিত হয় এবং আর্থিক উন্নতি ঘটে। এই দিন জামাকাপড় দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, হোলিকা দহনের সময় নারকেল পোড়ানো বা দহন করা বিশেষ শুভ ফল দেয়। সংসারে সমৃদ্ধি আনতে ধূপকাঠি বা প্রদীপ কেনা এবং পূজার সামগ্রী দান করাও বিশেষ পুণ্যকর্ম বলে পরিগণিত হয়। চন্দ্রগ্রহণ ও ভদ্রকালের অশুভ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এই দান-ধ্যান ও সাধনাই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন পণ্ডিতরা।
