মাঝরাতে হঠাৎই ঘরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, কিংবা পিঠের ওপর কারও ঠান্ডা নিঃশ্বাসের অনুভূতি— এ কি শুধুই মনের ভুল, নাকি সত্যিই পাশে কেউ এসে দাঁড়াল? অলৌকিক বা অতিলৌকিক জগত নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা ভূত দেখেছেন বা অশরীরী কিছুর উপস্থিতি টের পেয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞান যেখানে একে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেয়, শাস্ত্র এবং জ্যোতিষবিজ্ঞান সেখানে এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ খোঁজার চেষ্টা করে। সবাই কিন্তু এই রহস্যময় অনুভূতির মুখোমুখি হন না। শাস্ত্রমতে, বিশেষ কিছু মানুষই এই অশরীরী জগতের খুব কাছাকাছি চলে যান। আপনিও কি আছেন সেই তালিকায়?
ফাইল ছবি
শাস্ত্র মতে, মৃত্যুর পর আত্মার তিনটি রূপ— জীবাত্মা, প্রেতাত্মা ও সূক্ষ্মাত্মা। জীবিত শরীরে যা থাকে তা জীবাত্মা। কিন্তু কামনা, বাসনা, ক্ষোভ বা অতৃপ্তি নিয়ে মারা গেলে সেই আত্মা প্রেতাত্মার রূপ নেয়। দুর্ঘটনা, হত্যা বা আত্মহত্যার মতো অকালমৃত্যুর শিকার হওয়া আত্মারাও সহজে মুক্তি পায় না। মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তারা স্থূল ও সূক্ষ্ম শরীরের টানাপোড়েনে এই পৃথিবীতেই ঘুরে বেড়ায়। আর এদের উপস্থিতি সবাই টের না পেলেও, কিছু মানুষ সহজেই এদের কবলে পড়েন।
ফাইল ছবি
কারা ভূতের কবলে পড়তে পারেন?
জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে, এর পেছনে মূল কারিগর হল রাহু। জাতকের কোষ্ঠীতে রাহুর অবস্থান এই অতিলৌকিক অনুভূতির জন্য বহুলাংশে দায়ী। যদি কারও কোষ্ঠীর লগ্ন স্থান বা অষ্টম স্থানে রাহু বসে থাকে এবং তার ওপর অন্য কোনও ক্রূর বা নিষ্ঠুর গ্রহের দৃষ্টি পড়ে, তবে সেই ব্যক্তির অশরীরী জগতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ভাবে বেড়ে যায়। এঁরা খুব সহজেই নিজেদের চারপাশে এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় শক্তির উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। এ ছাড়া, জ্যোতিষ অনুযায়ী যাঁদের জন্ম ‘রাক্ষসগণ’-এ, তাঁদের ষষ্ঠেন্দ্রিয় অত্যন্ত তীব্র হয়। ফলে কোনও নেতিবাচক বা ভৌতিক শক্তি আশেপাশে থাকলে এঁরা তৎক্ষণাৎ তা বুঝতে পারেন।
ফাইল ছবি
পাশাপাশি, যাঁদের মানসিক শক্তি দুর্বল, যাঁরা সারাক্ষণ ভয়ের কথা চিন্তা করেন বা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, তাঁদের মনকে এই শক্তিগুলি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আবার একাদশী, অমাবস্যা বা পূর্ণিমার মতো পবিত্র তিথি না মেনে যাঁরা পাপকর্মে লিপ্ত হন, কিংবা রাত জেগে নিষিদ্ধ কাজ করেন, তাঁদের ওপরও এই কুপ্রভাব দ্রুত পড়ে।
তাই মাঝরাতে হঠাৎ গা ছমছম করে উঠলে তা স্রেফ ভয় নাও হতে পারে। হয়তো আপনার কোষ্ঠীর রাহুই আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে এক চেনা পৃথিবীর অচেনা রহস্যের দরজায়!
