shono
Advertisement
Bangladesh

রংপুরে খুন হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য, বাংলাদেশে ছয় মাসে ১৮ 'মাস কিলিং', উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

শুধু মে ও আগস্ট মাসে দশ ঘটনায় একই পরিবারের ২৭ জন নিহত হয়েছেন। 
Published By: Kishore GhoshPosted: 09:23 PM Aug 26, 2026Updated: 09:25 PM Aug 26, 2026

গত শনিবার বাংলাদেশের রংপুরে এক হিন্দু পরিবারের চার সদস্য খুন হন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে একই পরিবারের সকলকে একসঙ্গে খুন করা হয়েছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিবাদে একের পর এক মাসকিলিং-এর ঘটনায় চিন্তিত পদ্মাপাড়ের পুলিশ প্রশাসন থেকে মনোবিজ্ঞানীরা।

Advertisement

রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়ায় মাদক সেবনে আপত্তি করায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে খুন করা হয়। এর আগে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে গত ২৫ জুন মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন এক যুবক। প্রাণ হারান শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), ইকরা (১৭) ও সিপা (১০)। শুধু রংপুর ও লক্ষ্মীপুর নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য খুন হওয়ার ১৮টি ঘটনা সামনে এসেছে গত ছয় মাসে। এই সব ঘটনায় অন্তত ৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কোনও ক্ষেত্রে এক পরিবারের দু'জন, কোনও ক্ষেত্রে তিনজন, কোনও ক্ষেত্রে চারজন এবং কোনও ক্ষেত্রে পাঁচজনের প্রাণ গিয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে জমির বিরোধ একটি বড় সমস্যা। কোন সরকার এই বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ করতে পারেনি।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পর পর মাস কিলিংয়ে মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনার একটির সঙ্গে অন্যটির মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাবে, মিল রয়েছে। রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে খুনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। দেখা গিয়েছে, কোনও ঘটনায় সম্পত্তি বা জমির বিরোধ এবং কোনওটির সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক সামনে এসেছে। কোনওটি দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ। কোনও কোনও ঘটনার কারণ এখনও অজানা। শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আসামি গ্রেপ্তার করা নয়; অপরাধের কারণ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা নিয়েও কাজ করছে পুলিশ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে জমির বিরোধ একটি বড় সমস্যা। কোন সরকার এই বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ করতে পারেনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি। ফলে জমির বিরোধের কারণে দেশে বহু সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ বলছে, রংপুর ও লক্ষীপুর কাণ্ড ঘটিয়ছে মাদকাসক্ত যুবকরা। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গত ২৫ জুলাই খুন হন স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)। হত্যার অভিযোগ তাঁদের একমাত্র ছেলে রিমন দাশ গুপ্তের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, মাদকাসক্ত রিমন দীর্ঘদিন ধরে বেকার। চাকরি নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। সিলেট জেলা শহরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় ১২ আগস্ট সকালে ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২০) খুন হন।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে হত্যা মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি।

ঘটনার দিন বিকেলেই পুলিশ রায়নগর এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। বাবুল মিয়া রংমিস্ত্রি ও কসাইয়ের কাজ করত। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বাবুল মিয়ার। সম্পর্কে মনোমালিন্যের জেরে বাবলু মিয়া প্রথমে তাহমিনা এবং পরে দম্পতিকে খুন করে। তবে পুলিশের এমন দাবি মানতে নারাজ নিহত দম্পতির স্বজনেরা।

গত ছয় মাসে আত্রাই উপজেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান হত্যা, দিনাজপুরে ছেলেদের বিরুদ্ধে বাবা-সৎভাই হত্যা, মানিকগঞ্জে দেবরের বিরুদ্ধে ভাবি-ভাতিজা হত্যা, রাজধানীর কলাবাগানে স্বামীর হাতে স্ত্রী-শাশুড়ি হত্যা এবং সুনামগঞ্জে বাবার বিরুদ্ধে দুই শিশুসন্তান হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার পাঁচ খুনের ঘটনায় নিহত এক নারীর স্বামীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ছয় মাসের ১৮টি ঘটনার মধ্যে মে মাসেই ঘটেছে পাঁচটি। আগস্টের প্রথম ২৪ দিনেও স্বজনের সঙ্গে হত্যার শিকার হওয়ার পাঁচটি ঘটনা পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, শুধু মে ও আগস্টেই ১০ ঘটনায় একই পরিবারের ২৭ জন নিহত হয়েছেন। 

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে হত্যা মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৯৪৭টি। অর্থাৎ, এ বছরের প্রথম সাত মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে ১২৯টি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement