সুকুমার সরকার, ঢাকা: সম্প্রতি ইসলাম ‘অবমাননা’র অভিযোগে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হতে হয় এক শিক্ষককে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন সুধীজন। ধৃতের মুক্তি চেয়ে আওয়াজ তোলেন অনেকেই। এহেন পরিস্থিতিতে এবার অভিযুক্ত শিক্ষকের পাশেই দাঁড়ালেন অভিযোগকারী।
[আরও পড়ুন: এবার মাদক পাচারকারীদের নিশানায় ঢাকা! রাজধানীতে ইয়াবা-সহ গ্রেপ্তার ২ রোহিঙ্গা]
কয়েকদিন আগে স্কুলেরই এক কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামের ‘অবমাননা’র দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় শিক্ষক হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলকে। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের পাঠ দেন তিনি। ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মহম্মদ আসাদ বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৩ মার্চ ও ৪ এপ্রিল আদালতে হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলের জামিন চাওয়া হয়। তবে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। গত বুধবার তাঁর মুক্তির দাবিতে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন।
এবার, অভিযোগকারী মহম্মদ আসাদ নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, “গণিত শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল স্যরকে আমার চাকরি জীবনে ধর্ম নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে শুনিনি। স্যর একজন ভাল মানুষ ও শিক্ষক।” পদ্মাপাড় বিধৌত জেলা মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী হয়ে আসাদ মিয়াঁ এখন মনোকষ্টে ভুগছেন। আসাদ গত ১০ বছর ধরে ওই স্কুলে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে আসাদ জানান, মামলার বাদী হতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁকে বলেছিলেন এবং ভালভাবে না বুঝেই তিনি তাতে রাজি হয়ে যান। আসাদের বক্তব্য, “আমার সঙ্গে ঘটনার ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কোনও আলোচনা করেনি। শুধু মামলার বাদী হতে সদর থানায় ডাকা হয়েছিল।” আসাদ আরও বলেন, “আমারও প্রশ্ন আমিই কেন মামলার বাদী? স্কুলে তো আরও অনেক মানুষ ছিলেন।” ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মহম্মদ আসাদ বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৩ মার্চ ও ৪ এপ্রিল আদালতে হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলের জামিন চাওয়া হয়। তবে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
