সুকুমার সরকার, ঢাকা: মেহনতের মূল্য চাইতেই মিলল মার! অভিযোগ, সহকর্মীদের বেতন ও ভাতা নিয়ে আওয়াজ তোলায় খুন হতে হয়েছে শ্রমিক নেতা মহম্মদ শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদকে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর শহরের গাজীপুরা সাতাশ বাগানবাড়ি এলাকায়। রবিবার রাত ন’টার দিকে আক্রান্ত হন শহিদুল ইসলাম। হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক নেতা। অভিযোগের তির স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বছর পঞ্চাশের শহিদুল বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন গাজীপুর শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকার আজগর আলির ছেলে। আহত দু’জন হলেন মহম্মদ মোস্তফা কামাল (২৫) ও আহমেদ শরিফ (৩৫)।
[আরও পড়ুন: বসবাসের কতটা যোগ্য ঢাকা? কী বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট?]
স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, গাজীপুরের সাতাশ বাগানবাড়ি এলাকায় প্রিন্স জেকার্ড সোয়েটার লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা দু’মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। ইদের বোনাসও দেওয়া হয়নি। এনিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শহিদুল ইসলাম মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। রবিবার বকেয়া বেতন ও বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সারা দিন অপেক্ষা করিয়েও প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়নি।
এদিন রাত ন’টার দিকে শহিদুল-সহ তিনজন কারখানা থেকে বেরিয়ে প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ান। তখনই ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর হামলা চালায়। আশপাশের লোকজন আক্রান্তদের উদ্ধার করে গাজীপুরের তারগাছ এলাকার তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দু’জন ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক মহম্মদ শাহ আলম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানান, এক শ্রমিক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
