প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই চিন সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। ভারত সফরে এখনও পর্যন্ত রাজি হননি তিনি। এবার ঢাকা সাফ জানিয়ে দিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের উপর অনেকখানি নির্ভর করছে তারেকের ভারত সফর। যতক্ষণ না পর্যন্ত হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নয়াদিল্লি, ততক্ষণ তারেকের ভারতে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই, এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আপাতত নয়াদিল্লির ‘কূটনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন। স্বদেশে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তা তুচ্ছ করে নিজেই ডিসেম্বরে ফিরতে চান বাংলাদেশে। আগেই অবশ্য হাসিনাকে ঢাকার হাতে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল সে দেশের তারেক রহমান সরকার। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারত কেমন পদক্ষেপ করে, সেদিকে নজর রাখছে ঢাকা। এবং নয়াদিল্লির অবস্থান 'পছন্দ' হলে তবেই ভারত সফর নিয়ে ভাববেন তারেক।
দিনকয়েক আগে খবর ছড়াচ্ছিল, আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে আসতে পারেন তারেক। সেই জল্পনা একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিক এ কে এম শহিদুল করিম। তিনি জানান, "প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে কিনা আমরা আপাতত সেদিকে নজর রাখছি। তাই বলতে চাই, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে যে আবেদন করেছি, সেই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক ভারত।" এখানেই শেষ নয়, ওসমান হাদি খুনের দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত প্রত্যর্পণ করুক ভারত, চাইছে ঢাকা।
উল্লেখ্য, দু'বছরেরও বেশি সময় ভারতের আশ্রয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বদেশে তাঁর বিচার হয়েছে, ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে। হাসিনাকে ঢাকার হাতে প্রত্যর্পণ নিয়ে ইতিমধ্যে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতোর পর্ব চলেছে। হাসিনা নিজে গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভারচুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন, মৃত্যু পরোয়ানা নিয়েই তিনি ডিসেম্বর অর্থাৎ স্বাধীনতার মাসে দেশে ফিরবেন। সূত্রের খবর, হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালতই। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের শীর্ষস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
