shono
Advertisement
Bangladesh

লাল ফিতের ফাঁসে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী, বন্ধন এক্সপ্রেস! সিদ্ধান্ত হল না দ্বিপাক্ষিক রেল বৈঠকে

কোভিড কালে বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলি তারেক জমানায় চালু হওয়ার আশা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছে না।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:47 PM Sep 11, 2026Updated: 03:47 PM Sep 11, 2026

আশা জাগিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা। ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় রেল বৈঠকের শুরুর দিকে দু'দেশের মধ্যে রেল চলাচলে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, তা এখন কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। বিশ বাঁও জলে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ফের চালু হওয়ার বিষয়টি। ঢাকায় সচিবালয় সংলগ্ন রেলভবনে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় তিনটি রেল চলাচলে ভারত ও বাংলাদেশ তিনদিন ধরে চলা ৩৮তম বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে আলোচনা ইতিবাচক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু এই বৈঠকে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী, খুলনা-কলকাতা বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি দু'পক্ষ।

Advertisement

মিতালি এক্সপ্রেসটি ঢাকা সেনানিবাস থেকে ছেড়ে পার্বতীপুর ও চিলাহাটি হয়ে সীমান্ত পার হয়ে হলদিবাড়ি এবং সেখান থেকে নিউ জলপাইগুড়িতে পৌঁছয়। দূরত্ব প্রায় ৫৯৫ কিলোমিটার (বাংলাদেশের অংশে ঢাকা থেকে চিলাহাটি ৪৫৩ কিমি এবং চিলাহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ৭১ কিমি)। এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে ট্রেনগুলি বাংলাদেশ বন্ধ করেনি, তাই চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা সবুজ সংকেত পেলে তবেই বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার রেলভবনে আন্তঃসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে। কারণ, ভারতই সেই ট্রেন বন্ধ করেছে। প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।''

তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দূরত্ব কমানো, সময় ও যাত্রীদের ভাড়া হ্রাসের কথা মাথায় রেখে ঢাকা- কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে পুরনো যমুনা সেতুর পরিবর্তে নতুন পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রুট পরিবর্তন করে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি ট্রেনের মাধ্যমে পার্সেল পরিবহন এবং স্থগিত থাকা দ্বিপক্ষীয় রেল অবকাঠামো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

রেলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার রেলভবনে আন্তঃসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে। কারণ, ভারতই সেই ট্রেন বন্ধ করেছে। প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।'' বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রকের ওই আধিকারিকের দাবি, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিয়াউল হক। তাঁর বক্তব্য, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রী চাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনও কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement