মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ব্রহ্মচারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)। মাঝে একটি মামলায় জামিন পেলেও চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা মামলায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেল হাইকোর্ট।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলাটিতে জামিন খারিজের আদেশ জারি করেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের। এর আগে হত্যা-সহ পাঁচ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি ৭ মে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। আজ এই বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতো আদালত হত্যা মামলার রুলটি খারিজ করে জামিন নাকচ করেন। এছাড়াও বাকি চার মামলার আদেশের জন্য আগামিকাল সোমবার দিনটি ধার্য করেন।
এর আগে যে মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দেওয়া হয়েছে, সেটি দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মীর মহম্মদ নাসির উদ্দিন, যিনি পার্বত্য অঞ্চল ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মহম্মদ হেলাল উদ্দিনের বাবা। ওই মামলায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী জেলার মেখাল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে চিন্ময় কৃষ্ণ ছাড়াও আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে একই মামলা দায়ের হয়েছিল।
উল্লেখ্য, পুণ্ডরীক ধামের তৎকালীন অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে গড়ে ওঠা সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র হন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন স্থানে এসব দাবিতে সমাবেশ হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। এর পরই হিন্দু সন্ন্যাসীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে আনা হয়।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যার মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ, আইনজীবী ও মামলাকারীদের উপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে আদালতে এক দফায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। বর্তমানে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে এমন ছয়টি মামলা থাকায় এখনই জেলমুক্ত হবেন না তিনি।
