খেলা থেকে রাজনীতি, সাম্প্রতিক অতীতে ভারতবিদ্বেষই বাংলাদেশের চেনা চরিত্র। কিছুদিন আগে অবধি যে বাংলাদেশিরা কথায় কথায় ভারতবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন, এমনকী দিল্লি দখলেরও হুঁশিয়ারিও দিচ্ছিলেন, তাঁরাই এবার ভারতীয় পর্যটন ভিসার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্তে কার্যত অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল পদ্মপাড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া স্থগিত করে নয়াদিল্লি। প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করেছে ভারত। এরপরেই ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলিতে হামলে পড়েছে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকরা।
বাংলাদেশ জুড়ে পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে রবিবার, ২৮ জুন। আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে সোমবার, ২৯ জুন। নামে 'ট্যুরিস্ট ভিসা' হলেও ভারতভ্রমণের পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি ও চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলিতে বছরভর চিকিৎসার জন্য আসেন লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে সেই সুযোগ ছিল না। এতদিন পর উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেতে মরিয়া তারেক রহমানের দেশের আমজনতা। ফলে প্রথম দিনেই ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের আইভ্যাক সেন্টারে সকাল থেকে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ বিরতির পর পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় আবেদনকারী ও পর্যটকরা স্বস্তিবোধ করছেন। সূত্রের খবর, কেবল ঢাকাতেই নয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টারগুলিতেও এদিন ছিল দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ১.৪০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে পতন হয়েছিল শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর ক্ষমতায় আসে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সময় দেশজুড়ে অস্থীর পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সব ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চালু হলেও নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাকায় অবস্থিত মূল ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রটি ১৭ ডিসেম্বর বন্ধ হয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে হামলা হয়। যার পরে এই কেন্দ্রটিকেও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা অরাজক অবস্থা কাটে নির্বাচনে জিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও উন্নতি হয়। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম করছি, যা আগামী ২৮ জুন থেকে জমা দেওয়া যাবে। মানবিক বিবেচনায় মেডিক্যাল ভিসার সুবিধা আমরা অব্যাহত রাখব।”
