বাংলার সব মামলায় জামিন মিলেছিল আগেই। এবার সিবিআইয়ের হাতে থাকা অসমের মামলাতেও জামিন পেয়ে গেলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে জেলমুক্তির শর্ত নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে নিম্ন আদালতকে।
সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকে চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে অসমে। ওই মামলায় জামিন চেয়ে অতীতে গুয়াহাটি হাই কোর্টে আবেদন করেন সারদা কর্তা। কিন্তু ২০২৫ সালে গুয়াহাটি হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। সুদীপ্ত সেন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। শীর্ষ আদালত বলছে, "এই মামলায় ১০ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন অভিযুক্ত। তাই সার্বিকভাবে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা জামিন মঞ্জুর করছি।" শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এবার সুদীপ্তকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে। তবে কোন শর্তে মুক্তি হবে, সেটা ঠিক করবে নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালতে শর্ত ঠিক হলেই জেলমুক্তি হতে পারে সারদা কর্তার।
উল্লেখ্য, চিটফান্ড মামলায় বিচারাধীন বন্দি সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ১২ বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। একাধিক মামলা এবং আইনি জটে জেলেই রয়েছেন সারদা কর্তা। রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। তবে বাংলায় তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ৩৮২টি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই শেষ দু'টি মামলায় সুদীপ্তকে জামিন দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। এবার সিবিআইয়ের মামলাতেও জামিন পেয়েন তিনি।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২০১৩ সালে প্রকাশ্যে আসে সারদাকাণ্ড। ঘটনার পরেই দেবযানীকে নিয়ে সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন গা ঢাকা দিয়েছিলেন কাশ্মীরের সোনমার্গে। সেখান থেকে তাঁদের প্রথমে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ। যদিও পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে সারদা মামলা যায় সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু ধরা পড়ার পর থেকেই অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকেই জেলবন্দি অবস্থায় সুদীপ্ত সেন।
