সুকুমার সরকার, ঢাকা: নিত্য-নতুন বিয়ের নেশা! একটা, দুটো নয় বিভিন্ন এলাকায় ৯ বার বিয়ে! সঙ্গে লক্ষ লক্ষ টাকার যৌতুক। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের এসআই পরিচয়ে সুপাত্র সেজে চলছিল এই কারবার। অনেকদিন ধরেই পুলিশের টার্গেট ছিল এই ‘গুণধর’ ব্যক্তি। অবশেষে পুলিশের জালে অভিযুক্ত। এই মুহূর্তে তার ঠাঁই হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পাবনায়।
জানা গিয়েছে, প্রতারণার এক অভিনব পথ ধরেছিল দেশের উত্তরের জেলা পাবনার সাথিয়া উপজেলার ধোপাদহ গ্রামের নাজমুল হক। এই প্রতারক পুলিশের এসআই পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় ৯টি বিয়ে করেছে। পাবনা জেলায় ৫টি এবং পাশের জেলা বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় ৪টি। সুপাত্র সেজে বিয়ের পর যৌতুক হিসাবে লক্ষ লক্ষ টাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মোবাইলে পুলিশের পোশাক পরা ছবি দেখিয়ে টার্গেট করা হত মানুষদের। এর পর বিয়ে ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু অবশেষে নাজমুলকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তোলা হয়েছে আদালতেও।
[আরও পড়ুন: অটো চালকের বেশেই ছিনতাই, ঢাকায় আতঙ্কের নাম হামকা গ্রুপ!]
এনিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি আশিক ইকবাল জানান,সোমবার রাতে নাজমুলকে আটক করা হয়। এদিন শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের ভরিয়া গ্রামে ইউপি সদস্য মঞ্জু শেখের বাড়িতে যায় নাজমুল হক। সে নিজেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিতে চেয়েছিল। কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মঞ্জু শেখ থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন,ওই নামে কেউ চাকরি করে না।
একই সঙ্গে মঞ্জু শেখ জানতে পারেন নাজমুল নিজেকে পুলিশের পরিচয় দিয়ে মোকামতলা এলাকায় ৪টি বিয়ে করেছে। বিয়ের পর নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করেছে। এছাড়া পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিত সে। নাজমুলের মোবাইলে পুলিশের পোশাক পরা একাধিক ছবি পাওয়া গিয়েছ। অভিযোগ, এই ছবিগুলো দেখিয়ে নাজমুল মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করত।
