shono
Advertisement

নববর্ষে খাস পদ্মাপাড়ে আগুন পদ্মার ইলিশ, হাতে ছেঁকা গৃহস্থের, মন ভাল নেই বিক্রেতাদের

বাংলাদেশে ইলিশের সরবরাহ রয়েছে যথেষ্ট।
Posted: 01:44 PM Apr 14, 2022Updated: 01:44 PM Apr 14, 2022

সুকুমার সরকার, ঢাকা: করোনার কারণে গত দু’বছর নববর্ষে ঘরবন্দি ছিলেন ওপার বাংলার বাসিন্দারা। পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার রীতিতেও যেন ছেদ পড়েছিল। তার অবশ্য প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্ত দাম। কারণ, ইলিশ (Hilsa) কিনতে গিয়ে হাতে ছেঁকা গৃহস্থের। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। সুযোগ বুঝে এবারও দাম বাড়ালেন বিক্রেতারা।  

Advertisement

বাংলাদেশে ইলিশের অন্যতম পাইকারি বাজার চাঁদপুর। সেখানেও এবার বাজার মন্দা। ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছেন, “বাজারে ইলিশের সরবরাহ মোটামুটি।  তবে বিক্রি একেবারেই কম।” ১২৭ টন ইলিশ বিক্রি এখনও বাকি রয়েছে। অবশ্য বিক্রি কম হলেও দাম কমেনি। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মহম্মদপুরের কৃষি মার্কেট বাজার, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ইলিশের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। বুধবার ওই তিনটি বাজারে এক কেজি বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।

[আরও পড়ুন: একবারই দান করা যাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু, কৃত্রিম প্রজননের নিয়মে বড় বদল আনল কেন্দ্র]

মহম্মদপুরের কৃষি মার্কেট বাজারের মাছ বিক্রেতা মহম্মদ ইউনুস মিঞা জানান, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এক মন ইলিশ এনেছিলেন। কিন্তু বাজার একেবারে মন্দা। বুধবার সকাল ন’টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত মাত্র চার কেজি ইলিশ বিক্রি করতে পেরেছেন। কৃষি মার্কেট বাজারের অন্য ইলিশ বিক্রেতাদেরও একই দশা। দাম জিজ্ঞাসা করেই মুখ ফেরাচ্ছেন ক্রেতারা। ঢাকার অভিজাত কারওয়ান বাজারের ইলিশ বিক্রেতা জিয়াউল হক জানান, সকাল থেকে ১০ কেজি ইলিশও তিনি বিক্রি করতে পারেননি। এবার রমজানের মধ্যে পয়লা বৈশাখ হওয়ায় বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়েও কম হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। চাহিদা কম হওয়া সত্ত্বেও দাম কেন বাড়ল, উঠছে সে প্রশ্ন। তিনি বলেন, “এখন যে ইলিশ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো আগে সংরক্ষণ করা। তাই দাম বেশি।”

বাংলাদেশে ইলিশের ৬টি অভয়াশ্রমের মধ্যে পাঁচটিতে সব ধরনের মাছ ধরার উপর দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। গত ১ মার্চ শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরিয়তপুরে ইলিশ অভয়াশ্রম-সংশ্লিষ্ট নদনদী। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুরের খন্দকার ফিশ প্রসেসিং অ্যান্ড আইস প্ল্যান্ট কমপ্লেক্স হিমাগারে ১৩০ টন ইলিশ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। বুধবার এই হিমাগার থেকে মাত্র ৩ টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। বাকি ইলিশ হিমাগারেই রয়েছে। পয়লা বৈশাখে বিক্রি ভাল হবে, এই আশায় ভরা মরশুমে এসব ইলিশ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না।

খোকা ইলিশ সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২-এর উদ্বোধন করে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, “খোকা ইলিশ (স্থানীয় ভাষায়) জাটকা নিধন বন্ধ না হলে একসময় ইলিশ থাকবে না। কেউ আইন লঙ্ঘন করতে পারবেন না। মাঝেমধ্যে কয়েকজন মৎস্যজীবী নিয়ম ভাঙেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বরফকল বন্ধ রাখতে হবে, যাতে ওই মৎস্যজীবীরা মাছ সংরক্ষণ করতে না পারেন। বাজারগুলোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখা হবে। যেখানে যিনি জাটকা নিয়ে আসবেন, তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ইলিশ সম্পদ নষ্ট করার সুযোগ কোনভাবেই কোন দুর্বৃত্তকে দেওয়া যাবে না।” মন্ত্রী আরও বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষা শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব নয়। নৈতিক কর্তব্যও বটে। এ সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের ৮০ ভাগ ইলিশ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে না পারলে আমাদের ইলিশ উৎপাদনের শীর্ষ স্থান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই জাটকা সংরক্ষণে সম্মিলিত সহযোগিতা থাকতে হবে।”

[আরও পড়ুন: সকাল ১১.০৫-এর পর স্কুলে এলেই শিক্ষকদের ‘অনুপস্থিত’ ধরা হবে, রাজ্যে জারি কড়া নির্দেশিকা]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement