সাতসকালে লোকালয়ের মধ্যে হাতির তাণ্ডব। যা নিয়ে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে। এর মধ্যেই এক বৃদ্ধকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারল একটি ক্ষিপ্ত হাতি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বিজয় কোলে’র (৫৬)। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। মৃত এবং আহতদের বাড়ি জয়পুর ব্লকের রাউৎখন্ড গ্রামে। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বন আধিকারিকরা। গিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও। জানা যাচ্ছে, ঘটনার পরেই বনদপ্তরের তরফে স্থানীয়দের সতর্কও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালের দিকে মাঠ থেকে আলু তুলতে গিয়েছিলেন বিজয়বাবু এবং তাঁর সঙ্গীরা। সেই সময়েই জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি। প্রথমে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই দাপাদাপি শুরু করে। চিৎকার-চেঁচামেচি, দৌড়ঝাঁপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হুড়োহুড়ির সেই সময়েই রাস্তায় সামনে পড়ে যান বিজয়বাবু। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, হাতিটি আচমকা তাঁকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে তুলে মাটিতে আছাড় মারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ মাহাতো বলেন, “সবাই দৌড়চ্ছিল। কে কোথায় যাবে বোঝা যাচ্ছিল না। সেই ভিড়ের মধ্যেই বিজয়দা পড়ে যান। হাতিটা তুলে ছুড়ে ফেলে দেয়।” স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এক সুকুমার কোলে জানান, “হাতিটাকে কেউ কেউ লাঠি নেড়ে তাড়াতে যাচ্ছিল, কেউ খুব কাছে গিয়ে ভিডিও তুলছিল। তখনই ওটা ক্ষেপে যায়। কয়েক সেকেন্ডেই সব শেষ।”
হাতির হানায় আতঙ্কে জয়পুর ব্লকের রাউৎখন্ড গ্রাম
হাতির তাণ্ডবে রাস্তার ধারে রাখা সাইকেল, সবজির ঝুড়ি ছিটকে পড়ে। আতঙ্কে দোকানের শাটার নামিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। আহত তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনদপ্তরের পরিস্থিতি সামাল দেয়। জয়পুর রেঞ্জার রাজু দাস বলেন, “হাতিটি সম্ভবত দলছুট। লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়। কেউ উত্ত্যক্ত করলে বন্যপ্রাণী দ্রুত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। আমরা হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।” তবে সাতসকালে হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়া হাতির কয়েক মিনিটের দাপাদাপিতে থমকে গিয়েছে রাউৎখন্ড গ্রাম।
